মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

বাজেট

উন্মুক্ত বাজেটঃ

বাজেট বলতে আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যাসত্ম হিসাবকে বুঝায়। ব্যক্তি তার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় পায় তা কিভাবে বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয় করে ব্যয় করে তা যদি সুশৃঙ্খল ভাবে সাজানো হয় তাই হবে ব্যক্তিগত বাজেট। একই ভাবে সরকার/স্থানীয় সরকার এক বৎসরে বিভিন্ন উৎস থেকে কত টাকা আয় করতে চায় ও ব্যয় করতে তার সুবিন্যাস্তহিসাবকে সরকার/ স্থানীয় সরকার বাজেট বলে। বাজেট হলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা সহজ ভাবে বলা যায় বাজেট স্থানীয় সরকারের প্রকৃত অবস্থার প্রতিফলন এবং অর্থনৈতিক অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরা।

ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট কি ?

স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ৪৭ ধারা অনুযায়ী বাজেটের মূল বৈশিষ্ট হলো আর্থিক বছর শুরুহওয়ার আগে নিদিষ্ট পন্থায় ঐ বছরের ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভব্য আয় ও ব্যায় সংক্রামত্ম হিসাবের বিবরনী তৈরী করা। ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে লক্ষ রেখে বাজেট প্রনয়ন করা ইউনিয়ন পরিষদের অন্যতম বাধ্যতামূলক কাজ।

জনঅংশগ্রহণ মূলক বাজেট প্রণয়নের যৌক্তিকতাঃ

সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কাজের আয়-ব্যায়ের হিসাব দিয়ে বাজেট করতে হয়। যেখানে জনগনের কোন অংশীদারিত্ব থাকে না সেখানে ইউনিয়নের চাহিদা মত উন্নয়ন মূলক কাজ হয় না। সে জন্য সরকার জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহনমূলক পরিকল্পনার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অংশগ্রহণ হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া যেখানে একাধিক ব্যক্তি/ গোষ্টি কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তথ্য আদান প্রদান, সম্পদ সংগঠিত করন ও কার্যসম্পাদনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত থাকে। যে পরিকল্পনা জনগণের সরাসরি অংশগ্রহনের মাধ্যমে প্রনয়ন করা হয় তাকেই অংশগ্রহণ মূলক পরিকল্পনা/বাজেট বলে। অংশগ্রহণ মূলক স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ের কাজের গুনগতমান ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। এর গুরুত্ব উপলব্দি করে আটুলিয়া ইউনিয়ন বিগত বছরের মত এ বছরও জন অংশগ্রহন মূলক বাজেট করতে চলেছে।

বাজেটের লক্ষ্যঃ আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট প্রক্রিয়ায় জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি পূর্বক সকল শ্রেণীর জনগনের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচন করা।

বাজেটের উদ্দেশ্যেঃ

·         জনগণের কাছে ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা।

·         জনগণের অনুভূতির চাহিদার গুরুত্ব আরোপ করা।

·         স্থানীয় সম্পদ চিহ্নিতকরন, আহরন ও কাজে লাগানো।

·         স্থানীয় প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ।

·         উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনগণের অংশগ্রহন করানো।

·         ইউনিয়ন পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সাধন।

·         সরকারী নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ।

·         জনগনের আস্থার প্রতিফলন ঘটানো।

·         অবকাঠামোগত ও মানবিক উন্নয়ন ঘটানো।

·         ইউনিয়নের উন্নয়নে জনগণের করণীয় বিষয় জানানো।

ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের উৎসঃ গ্রামীণ জনগণের আর্থ-সামজিক উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জনগন ও সরকার হতে প্রাপ্ত অর্থই হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের মূল উৎস। বিধান অনুযায়ী পরিষদের আয় মুলত তিনটি উৎস হতে হয়ে থাকে। যথাঃ (১) রাজস্ব আয় (২) সরকারী আয় ও (৩) অন্যান্য উৎস।

রাজস্ব আয়ঃ স্থানীয় সরকারের অধ্যাদেশ ১৯৮৩ ও স্থানীয় সরকার (সংশোধনী) আইন ১৯৯৩ এবং সরকারের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদকে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে নিম্মোক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়।

            (ক) বাড়ীর বার্ষিক মূল্যের উপর কর।

            (খ) পেশা, ব্যবসা, এবং বৃত্তির উপর কর।

            (গ) পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত লাইসেন্স, এবং পারমিটের জন্য ফি।

            (ঘ) হাট বাজার ফেরী হতে ফি।

            (ঙ) স্থাবর সম্পত্তি হস্তন্তর কর ১%।

(চ) সিনেমা, নাটক, থিয়েটার, প্রদর্শনী, এবং এ ধরনের প্রমোদ কর।

অন্যান্যঃ  (ক) কোন ব্যক্তির অনুমোদন প্রাপ্তি (খ) সম্পত্তির আয়

উপরোক্ত অনুমোদনের ও পরিষদের অর্জনের ভিত্তিতে ইউনিয়নের উন্নয়ন নির্ভর করে। ইউনিয়ন পরিষদকে আয়ের একমাত্র উৎস বলা যায় ট্যাক্স। অর্থাৎ ট্যাক্স আদায়ের উপর ইউনিয়নের উন্নয়ন নির্ভর করে। সুতরাং ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের প্রতিষ্ঠান এই ধারনা জনগণকে অর্জন করতে হবে। এবং নিজের প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব জনগণের।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter