মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

গ্রাম আদালত

গ্রাম আদালত

 

পারম্ভিকা,

 

|প্রতিটি দেশের আইন ও বিচার কাঠামো মানব সেবায় ভূমিকা রাখার জন্যই তৈরী হয়। কিন্তু এই বিদ্যমান কাঠামোতে প্রাপ্ত সেবা পেতে যদি দীর্ঘ সময় লাগে এবং পদ্ধতি যদি জটিল হয়, তখন সাধারণ মানুষের হয়রানি বৃদ্ধি পয় এবং আইন ও বিচার কাঠামো চালু রাখার অর্থ বৃথা হয়ে যায়। বিদ্যামান জনবলের তুলনায় বিচার প্রার্থীদের সংখ্যা যদি অনেক বেশি হয়, তখন মামলার দীর্ঘ সূত্রিতা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরূপ একটি অবস্থা হতে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেয়ার লক্ষ্যে প্রণীত হয় গ্রাম আদালত আইন।

আমরা আবার জানি যে, সকল আইনের একটি সুনির্দিষ্ট ভাষাগত রূপ রয়েছে এবং যে কারণে সাধারণ পাঠকদের নিকট তা সহজবোধ্য হয় না। বার বার পড়েও একটি আইনের সকল দিক মনে রাখাও কঠিন হয়ে যায়। এমন অনেক প্রশেèর সৃষ্টি হয় যার উত্তর আইনে সরাসরি দেয়া থাকে না। আইনে তার উত্তর বিদ্যমান থাকলেও সাধারণ পাঠকগণ তা উদ্ধারে ব্যর্থ হন। গ্রামাঞ্চলে এরূপ পাঠকদের সংখ্যাই বেশী, সেই সমস্ত পাঠকদের লক্ষ্য করেই প্রণয়ন করা হয়েছে ‘‘প্রশ্নোত্তরে গ্রাম আদালত’’ পুস্তিকাটি। এসঙ্গে ‘‘গ্রাম আদালতের টাইম ফ্রেম’’ এবং ‘‘নমুনা আদেশ পত্র’’ সংযুক্ত করা হয়েছে গ্রাম আদালত প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করার জন্যে। দ-বিধি সংশ্লিষ্ট ধারা সমূহ গ্রাম আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী অনুবাদ করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়ে একটি বই আকারে প্রকাশ করতে পারায় মহান আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আমার দুই প্রিয় সহকর্মী এ,কে,এম, হেদায়েতুল ইসলাম এবং জনাব দিপন দেবনাথ এই বইটি প্রকাশে সার্বিক সহযোগিতা করায় তাদের নিকটও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নওগাঁ জেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব সাহেবদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যাঁরা এই বই এর প্রথম পাঠক এবং বইটি প্রকাশের উৎসাহ যুগিয়েছেন। জেলা সহায়ক, এলজিএসপি, নওগাঁ জনাব মোঃ মোহাইমেনুর রহমান সার্বক্ষণিক পাশে থেকে উৎসাহ যুগিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। ড. মোঃ আমিনুর রহমান, জেলা প্রশাসক, নওগাঁ মহোদয়ের দিক নির্দেশনা এবং উৎসাহ ামার এ কাজে গতি সঞ্চার করায় তাঁর অনুপ্রেরণা কৃতজ্ঞতাভবে স্মরন করছি।

উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, নওগাঁ হিসেবে যোগদান করার পর মাননীয় হুইপ জনাব মোঃ শহীদুজ্জামান সরকার, এমপি, নওগাঁ-২ এবং নওগাঁ-১ আসনের মাননীয় এমপি বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার কর্তৃক নওগাঁ জেলার গ্রাম আদালতকে কার্যকর করার দিক নির্দেশনা আমাকে এই বইটি প্রণয়ণে উৎসাহ যুগিয়েছে। খুব কম সময়ে বইটি প্রণয়ন ও মুদ্রিত হওয়ায় অনেক ভুলত্রুটি রয়ে গেল। প্রতিটি সংস্করণে সেগুলো দূর করতে এবং সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় বিষয় সংযোজন করে বইটিকে সমৃদ্ধ করার প্রস্তুতি আমাদের সার্বক্ষণিক থাকবে। এক্ষেত্রে যে কোন শুভা-কাংক্ষীর পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে। পরিশেষে, গ্রাম বাংলার যে সমস্ত সাধারণ মানুষের জন্যে এ বইটি রচিত তাদের সামান্য উপকারে আসলেই আমাদের এই পরিশ্রম স্বার্থক হবে বলে মনে করি

 

প্রশ্ন উত্তরে গ্রাম আদালত

১। কেন গ্রাম আদালত গঠন করা হয়?

উত্তর: দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারধীন এলাকায় কতিপয় বিরোধ ও বিবাদ সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।

২। গ্রাম আদালত কিভাবে গঠিত হয়?

উত্তর: ০৫ জন নিয়ে গঠিত (ক) ০১ জন চেয়ারম্যান (খ) ০২ জন বাদী পক্ষ (এর মধ্যে একজন ইউপি সদস্য) আবেদনকারী (গ) ০২ জন বিবাদী পক্ষ (এর মধ্যে একজন ইউপি সদস্য) প্রতিবাদী

৩। দ-বিধি ( The Penal Code) কি?

উত্তর: ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন। মূলত এ আইনেই অধিকাংশ অপরাধের বিচার হয়।

৪। দেওয়ানী কার্যবিধি (Code of Civil Procedure)

উত্তর: ১৯০৮ সালের ০৫ নং আইন। সিভিল বিচারে এ আইনের প্রয়োগ হয়।

৫। ফৌজদারী কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure)

উত্তর: ১৮৯৮ সালের ০৫ নং আইন। ফৌজদারী অপরাধের বিচার পদ্ধতির নির্দেশক।

৬। গ্রাম আদালত আইনের তফসিল সমূহ কী কী?

উত্তর: প্রথম অংশঃ ফৌজদারী মামলাসমূহ দ্বিতীয় অংশঃ দেওয়ানী মামলাসমূহ

৭। আমলযোগ্য অপরাধ কী?

উত্তর: আমলযোগ্য অপরাধ বলতে সেই অপরাধ বোঝায় যে অপরাধের জন্য পুলিশ বিনা গ্রেফতারি পরওয়ানায় আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারে।

৮। গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য মামলা কী কী ?

উত্তর: গ্রাম আদালত আইনের তফসিলের প্রথম অংশে ও দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত বিষয়াবলী সম্পর্কিত ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা। - কোন ফৌজদারী বা দেওয়ানী আদালতের অনুরূপ কোন মামলা বা মোকদ্দমার বিচার করা এখতিয়ার থাকবে না। - কোন ব্যক্তিকে পূর্বে গ্রাম আদালত দ- দলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা বিচার্য হবে না। দেওয়ানী মামলাও করা যাবে না। যদি- যদি কোন নাবালকের স্বার্থ জড়িত থাকে- যদি কোন উভয়পক্ষের মধ্যে কোন সালিশের চুক্তি থাকে এবং- যদি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কর্তব্য পালনরত কোন সরকারী কর্মচারী উক্ত বিবাদের কোন পক্ষ হয়। - কোন সম্পত্তির দখল অর্পণ এর আদেশ দেয়া থাকলেও সেই সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার নিয়ে বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠা বিষয়ক মামলা করা যাবে।

৯। গ্রাম আদালত গঠিত হয় কখন?

উত্তর : কেউ গ্রাম আদালতে বিচার্য কোন বিষয়ে আদালত গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউ: পি চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করলে-- নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে। - প্রতিটি মামলার জন্য একটি গ্রাম আদালত গঠন করতে হবে।

১০। চেয়ারম্যান কি গ্রাম আদালতের মামলার আবেদন নাকচ করতে পারেন?

উত্তর: হ্যাঁ, পারেন। তবে লিখিত কারণ দর্শানোপূর্বক আবেদনটি নাকচ করতে হবে।

১১। চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতে মামলার আবেদন নাকচ করলে কি করা যায়?

উত্তর: আবেদন নামঞ্জুর করলে আবেদনকারী এখতিয়ার সম্পন্ন সহকারী জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করতে পারেন। রিভিশন আবেদন-প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবেন।

১২। সকল সময়ই কি ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হওয়া বাধ্যতামূলক ?

উত্তর: না। ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতে চেয়ারম্যান হবেন না। যদি (ক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন(খ) চেয়ারম্যানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।

১৩। ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান না হলে কে চেয়ারম্যান হবেন?

উত্তর: গ্রাম আদালত গঠনের লক্ষ্যে পক্ষগণ কর্তৃক মনোনীত সদস্য ব্যতীত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের অন্য কোন সদস্য গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হবেন। এ কার্যক্রমটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্পন্ন করবেন।

১৪। বাদী -বিবাদী একাধিক হলে কি করণীয় ?

উত্তর: চেয়ারম্যান পক্ষভূক্ত ব্যক্তিগণকে তাদের মধ্যে দুইজন সদস্য মনোনয়নের জন্য বলবেন। -তারা মনোনয়নদানে ব্যর্থ হলে পক্ষভূক্ত ব্যক্তিগণের মধ্যে যে কোন একজন সদস্য মনোনয়ের ক্ষমতা প্রদান করবেন এবং সে অনুযায়ী অনুরূপ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মনোনয়ন করবেন।

১৫। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ব্যতীত অন্য কেউ কি গ্রাম আদালতের সদস্য মনোনীত হতে পারেন ?

উত্তর: হ্যাঁ পারেন। চেয়ারম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে।

১৬। সদস্য মনোনয়নে পক্ষভূক্ত ব্যক্তিগণ ব্যর্থ হলে কি হবে?

উত্তর: চেয়ারম্যান লিখিতভাবে ব্যর্থতার কারণ উল্লেখ করে আবেদনকারী উপযুক্ত আদালতে মামলা করতে পারবে মর্মে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সনদ প্রদান করে আবেদনপত্রটি আবেদনকারীর নিকট ফেরত দিবেন।

১৭। গ্রাম আদালত এর এখতিয়ার?অথবা, গ্রাম আদালত কোন ইউনিয়নে গঠিত হবে?

উত্তর: বাদী-বিবাদী ও ঘটনা একই ইউনিয়নে হলে সেই ইউনিয়ন পরিষদে আদালত গঠিত হবে। - বাদী-বিবাদী ভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা হলে যে ইউনিয়নে ঘটনা ঘটেছে সে ইউনিয়নে আদালত গঠিত হবে। - তবে বাদী- বিবাদীগণ নিজ নিজ ইউনিয়ন হতে সদস্য মনোনয়ন করতে পারবেন।

১৮। গ্রাম অদালতে মামলা দায়েরের সময়সীমা কতদিন?

উত্তর: ফৌজদারী মামলা:- ঘটনা সংঘটনের ৩০ দিনের মধ্যেদেওয়ানী মামলা :- কারণ উদ্ভবের ৬০ দিনের মধ্যে। তবে স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার এক (০১) বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধার এর মামলার করা যাবে।

১৯। গ্রাম আদালত গঠিত হওয়ার কত দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করতে হবে?

উত্তর: অনধিক ১৫ (পনের) দিন।

২০। প্রাক বিচারে প্রথম অধিবেশন কি হবে?

উত্তর: উভয় পক্ষের শুনানী,- মামলা বিচার্য নির্ধারণ - পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসার উদ্যোগ।

২১। আপোষ বা মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে?

উত্তর: উদ্যোগ গ্রহণের পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিন।

২২। আপোষনামায় কি কি থাকবে ?

উত্তর: (১) মীমাংসার শর্তাবলী(২) উভয়পক্ষের যৌথস্বাক্ষর/ বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ। (৩) সাক্ষী হিসেবে উভয়পক্ষের মনোনীত সদস্যগণের আপোষনামায় স্বাক্ষর।

২৩। গ্রাম আদালতের আপোষনামার মাধ্যমে বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তি হলে এর বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিশন দায়ের করা যাবে কি?

উত্তর: না। এর বিরুদ্ধে কোন আপীল বা রিভিশন দায়ের করা যাবেনা ।

২৪। প্রাক বিচার কি?

উত্তর: মূল বিচারের প্রারম্ভে উভয় পক্ষের মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি।

২৫। প্রাক বিচার বা আপোষনামার মাধ্যমে কোন মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হলে কি হবে?

উত্তর: আদালত ১৫ (পনের) দিনেরমধ্যে মামলাটির শুনানী কার্যক্রম শুরু করবে। এ পর্যায়ে যে কোন পক্ষ চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে মনোনীত সদস্যকে পরিবর্তন করতে পারবেন।

২৬। মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা কত?

উত্তর: প্রাকবিচার পরবর্তী অনধিক ৯০ দিন । তবে এই সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব না হলে গ্রাম আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করে পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে অর্থাৎ সর্বোচ্চ সময়সীমা ১২০ দিন।

২৭। মামলার সময়কাল ১২০ দিন অতিবাহিত হলে কি হবে?

উত্তর: গ্রাম আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙ্গে যাবে।

২৮। গ্রাম আদালত ১২০ দিনের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হলে বাদী- বিবাদীর করণীয় কি?

উত্তর: গ্রাম আদালত ভেঙ্গে যাওয়ার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

২৯। গ্রাম আদালতের দ- প্রদানের ক্ষমতা কত?

উত্তর: এই আইনে ভিন্ন কোন বিধান না থাকলে ৭৫০০০/- টাকা ।

৩০। দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের ক্ষমতা কি?

উত্তর: তফসিলে বর্ণিত দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে (ক) দাবীকৃত অর্থের পরিমাণ ৭৫০০০/- টাকা হলে বা(খ) অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য বা ৭৫০০০/- টাকা হলে বা(গ) অপরাধ সংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য অনধিক ৭৫০০০/- টাকা ।

৩১। গ্রাম আদালতে সিদ্ধান্ত কখন উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যকর হবে?

উত্তর: ৫ সদস্যের ৪ জন একমত হলে বা - ৪ সদস্যের ৩ জন একমত হলে।

৩২। গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কখন আপীল করা যাবে?

উত্তর: যখন ৫ জন সদস্যের ০৩ জন একমত এবং ০২ জন ভিন্নমত পোষণ করবেন।

৩৩। মামলাসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে কত দিনের মধ্যে আপীল করতে হবে ?

উত্তর: ৩০ দিনের মধ্যে আপীল করতে হবে।

৩৪। ফৌজদারী মামলাসমূহের আপীল কোন আদালতে করতে হবে ?

উত্তর: এখতিয়ার সম্পন্ন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।

৩৫। দেওয়ানী মামলাসমূহের আপীল কোন আদালতে করতে হবে ?

উত্তর: এখতিয়ারসম্পন্ন সহকারী জজ আদালতে করতে হবে।

৩৬। আপীল করার পর সংশ্লিষ্ট আদালত যদি মনে করেন সংক্ষুদ্ধ পক্ষ সুবিচার পাননি সে ক্ষেত্রে পরবর্তী কার্যক্রম কি হবে?

উত্তর: আদালত উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবে, অথবা - পুনর্বিবেচনার জন্য মামলাটি গ্রাম আদালতের নিকট ফেরত পাঠাতে পারবে।

৩৭। গ্রাম আদালত কর্তৃক গ্রাম আদালত আইনের বিধান অনুযায়ী কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা কি অন্য আদালত পুনরায় বিচার করতে পারে?

উত্তর: না, অন্য কোন গ্রাম আদালত বা অন্যকোন আদালতে তা আর বিচার্য হবে না।

৩৮। গ্রাম আদালত কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন ?

উত্তর: বিধি মোতাবেক নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং নির্দিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন।

৩৯। গ্রাম আদালতের আদেশের পরও কোন পক্ষ অর্থ প্রদান না করলে করণীয় কি?

উত্তর: ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর বিধান অনুযায়ী আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে প্রদান করবেন।

৪০। গ্রাম আদালত ক্ষতিপূরণের অর্থ কিস্তিতে আদায়ের আদেশ দিতে পারেন কী ?

উত্তর: হ্যাঁ পারে।

৪১। গ্রাম আদালত কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে নির্দেশ হলে তা কত দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে?

উত্তর: চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের ০৬ মাসের মধ্যে প্রদান করতে হবে।

৪২। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কোন আইন বা বিধি অনুযায়ী বকেয়া আদায় করেন ?

উত্তর: ইউনিয়ন পরিষদ (কর) বিধিমালা, ১৯৬০ অনুযায়ী ।

৪৩। কোন ব্যক্তি পাওনা প্রদানে ব্যর্থ হলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কি করবেন?

উত্তর: বকেয়া তালিকা ইউনিয়ন পরিষদ নোটিশ বোর্ডে লটকে দিবেন। বকেয়া তালিকা নোটিশ বোর্ডে লটকানোর ১৫ দিন অতিবাহিত হলে তা সরকারি পাওনা হিসেবে আদায়ের পদক্ষেপ নিবেন।

৪৪। ইউনিয়ন পরিষদ কর বকেয়া আদায়ের জন্য জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত ও নিষ্পত্তি করতে পারবেন কী না?

উত্তর: স্থানীয় সরকার (ইউনিয় পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৬৮ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলে তিনি পারবেন।

৪৫। কোন ব্যক্তি গ্রাম আদালতে মিথ্যা মামলা করালে বা করলে কি শাস্তি?

উত্তর: অনধিক ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা জরিমানা।

৪৬। মিথ্যা মামলা এর জন্য জরিমানাকৃত টাকা কে পাবেন?

উত্তর: এই টাকা মিথ্যা মামলা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে।

৪৭। গ্রাম আদালত কখন সমন দিতে পারেন ?

উত্তর: (ক) কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হতে (খ) কোনব্যক্তিকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য (গ) কোন দলিল দাখিল করার জন্য ।

৪৮। কোন সাক্ষী বা ব্যক্তির আবাস গ্রাম আদালত এখতিয়ারাধীন ইউনিয়নের বাহিরে হলে ঐ ব্যক্তির ভ্রমণ ও অন্যান্য খরচ কি প্রাপ্য হবেন?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রাপ্য হবেন।

৪৯। গ্রাম অদালত কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমন দিতে পারবে না?

উত্তর: ক) যাদেরকে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা প্রদান থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। খ) যেসকল ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের অধিবাসী নয় এবং তাদের ভ্রমণ ও অন্যান্য খরচ বাবদ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অর্থ জমা না হয়, গ) রাষ্ট্রীয় গোপন দলিল বা অপ্রকাশিত সরকারি রেকর্ড দাখিল করার জন্য বা এ বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করার জন্য ।

৫০। কোন ব্যক্তি সমন ইচ্ছা পূর্বক অমান্য করলে কি শাস্তি?

উত্তর: অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার বক্তব্য পেশের সুযোগ প্রদান সাপেক্ষে অনধিক ১ (এক) হাজার টাকা জরিমানা।

৫১। গ্রাম আদালতের অবমামনা করলে শাস্তি কি?

উত্তর: অনধিক ১ (এক) হাজার টাকা জরিমানা।

৫২। গ্রাম আদালত অবমাননা কখন হয়?

উত্তর: (ক) গ্রাম আদালত চলাকালে এর কোন সদস্যকে অশালীন কথাবার্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আক্রমণাতœক বা অন্যবিধি আচরণ করলে;(খ) গ্রাম আদালত এর কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে ;(গ) গ্রাম আদালতের আদেশ সত্ত্বেও দলিল দাখিল বা অর্পণ বা হস্তান্তরে ব্যর্থ হলে;(ঘ) গ্রাম আদালতে বিধি অনুযায়ী জবাব দিতে বাধ্য কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করলে;(ঙ) সত্য কথা বলার শপথ গ্রহণে অস্বীকার করলে; (চ) প্রদত্ত জবান বন্দিতে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে।

৫৩। গ্রাম আদালত কোন জরিমানা তৎক্ষণাৎ আদায়ে ব্যর্থ হলে কি করবেন?

উত্তর: অনাদায়ের কারণ উল্লেখপূর্বক একটি আদেশ ইউনিয়ন পরিষদে প্রেরণ করবেন।

৫৪। গ্রাম আদালতের নিকট জমাকৃত বা গ্রাম আদালতের আদেশে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ কোথায় জমা থাকবে?

উত্তর: অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার পক্ষে আদায়কৃত অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রদান করা না গেলে তা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা করতে হবে।

৫৫। গ্রাম আদালতে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে কোন কোন বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে?

উত্তর:(ক) Evidence Act 1872 (খ) Code of Criminal Procedure-1898(গ)) Code of Civil Procedure এর ১০ ও ১১ ধারা

৫৬। গ্রাম আদালতে কোন কোন মামলার ক্ষেত্রে Oaths Act, 1873 প্রযোজ্য?

গ্রাম আদালতে সকল মামলায় Oaths Act, 1873 এর ৮,৯,১০, ও ১১ ধারা প্রযোজ্য।

৫৭। কোন সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব পালনকালে বা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অপরাধ সংঘটিত হলে সে অপরাধের বিচার কিভাবে হবে?

এ অবস্থায় সে সরকারী কর্মচারীর বিচারের জন্য তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে।

৫৮। গ্রাম আদালতে কি আইনজীবি নিয়োগ করা যাবে?

উত্তর: না, কোন আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবে না।

৫৯। গ্রাম আদালতে কোন কোন ব্যক্তি তার পক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে ?

উত্তর:(ক) সরকারী কর্মচারী (যদি ঐ কারণে সরকারী কাজের ক্ষতি হয়)(খ) শারীরিকভাবে অক্ষম এবং(গ) পর্দানশীন বৃদ্ধ মহিলা

৬০। কোন সরকারী কর্মচারীর প্রতিনিধি হলে তিনি কত পারিশ্রমিক পাবেন?

উত্তর: কোন পারিশ্রমিক পাবেন না

৬১। গ্রাম আদালতের মামলা কখন স্থানান্তর হয়?

উত্তর: গ্রাম আদালতে কোন মামলা ফৌজদারী আদালতে স্থানান্তরের উপযুক্ত মনে হলে এবং অধিকতর শাস্তিযোগ্য মনে হলে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল আদালতে স্থানান্তর করবেন।

৬২। গ্রাম আদালতে কয়টি পক্ষ থাকে?

উত্তর: দুইটি। ক) আবেদনকারী এবং খ) প্রতিবাদী পক্ষ। এই আইনে কাউকে অভিযোগকারী বা অভিযুক্ত বা আসামী বা প্রতিপক্ষ বলার সুযোগ নেই।

৬৩। গ্রাম আদালতে আবেদনে কোন ফিসের প্রয়োজন আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ। ফৌজদারী মামলা হলে ১০ টাকা এবং দেওয়ানী মামলা হলে ২০ টাকা হারে ফিস অবশ্যই প্রদান করতে

৬৪। কোন জাতীয় মামলায় ফিস এর প্রয়োজন নেই?

উত্তর: দেওয়ানী বা ফৌজদারী আদালত হতে বিচারের জন্য গ্রাম আদালতে প্রেরিত হলে ফিস দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ¬¬¬¬¬¬¬¬

৬৫। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে মামলার আবেদন আসলে কী হবে?

উত্তর: প্যানেল হতে দায়িত্ব পালনকারী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) গ্রাম আদালত গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

৬৬। বিভিশন আবেদন নিষ্পত্তির সময় কতদিন?

উত্তর: সহকারী জজ আদালতে দাখিল হতে ৩০ দিনের মধ্যে রিভিশন নিষ্পত্তি করতে হবে।

৬৭। আবেদন গৃহীত হওয়ার পর হতে নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত সময়সীমা উল্লেখ করুন।

উত্তর: ক) আবেদন গৃহীত হওয়ার পর পথম ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে আবেদনকারী এবং প্রতিবাদীকে হাজির হওয়ার তারিখ ও সময় উল্লেখ করে সমন দিতে হবে। খ) উভয় পক্ষ উক্ত তারিখে হাজির হলে ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য উভয় পক্ষ সময় দিতে হবে।গ) আবেদন গৃহীত হওয়ার পর (১ম হাজিরা৭দিন+প্রতিনিধি মনোনয়ন ৭দিন) সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে গ্রাম আদালত গঠন করতে হবে। অর্থাৎ পূর্বের দুই ধাপের যে কোনটিতে অনূর্ধ্ব ৭ (সাত) দিনের মধ্যে যেকোন দিন উল্লিখিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ঘ) আদালত গঠিত হওয়ার ০৩ (দিন) দিনের মধ্যে প্রতিবাদী আবেদনকারীর আবেদনের বিরুদ্ধে বিরোধীয় বিষয়ে লিখিত আপত্তি দাখিল করবেন মর্মে আদালত নির্দেশ দিবেন। আপত্তি ঐচ্ছিক বিধায় তা দাখিল না হলেও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে। ঙ) গ্রাম আদালত গঠনের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে (এ সময় গ্রাম আদালত গঠিত হওয়ায় পূর্বের ১৪ দিনে বা এর কম যে সময় লাগে তার পরবর্তী) গ্রাম আদালতের অধিবেশনের তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন। উক্ত তারিখ ও সময়ে পক্ষগণ নিজ নিজ মামলায় সমর্থনে প্রয়োজনীয় সাক্ষী ( মৌখিক+ দালিলিক) উপস্থাপন করবেন। চ) উক্ত শুনানীতে বিচার্য বিষয় নির্ধারিত হলে বিচারক প্যানেল উভয় পক্ষের নিকট প্রাক বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিষয় উপস্থাপন করবেন। ছ) প্রাক বিচারের উদ্যোগ গ্রহণের দিন হতে ৩০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। জ) আপোষ নিষ্পত্তি হলে আপোষ বাস্তবায়ন আপোষ নামা সম্পাদনের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে হতে হবে।

৬৮। চেয়ারম্যান এবং আদালতের এখতিয়ার কী কী?

উত্তর: ক) আবেদন গ্রহণযোগ্য বিবেচিত না হলে কারণ উল্লেখ পূর্বক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন তা খারিজ করতে পারবে। খ) আদালত প্রাক বিচারে উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। গ) আপোষ না হলে বিচার্য বিষয়ে সাক্ষী প্রমাণ গ্রহণ করে সংখ্যা গরিষ্ঠের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। ঘ) বিরোধীয় বিষয়ে প্রয়োজনে সরজমিনে তদন্ত করতে পারবে। ঙ) মামলার সাক্ষীকে জেরা কর পারবে। চ) আবেদনকারীর গড় হাজিরার কারণে আবেদন খারিজ করতে পারবে। ছ) প্রতিবাদী হাজিরা দিয়ে অনুপস্থিত থাকলে এবং গ্রাম আদালত গঠিত হওয়ার পর অনুপস্থিত থাকলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার নিষ্পত্তি করতে পারবে। জ) কেহ আদেশ অমান্য করলে বা অবজ্ঞা প্রদর্শন করলে আদালত অবমাননার দায়ে ১ (এক) হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করতে পারবে। ঝ) কেহ মিথ্যা মামলা করলে তাকে ০৫ (পাঁচ) হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারবে।

৬৯। সমন প্রদত্ত ও জারীর নিয়ম সমূহ কী কী?

উত্তর: ক) সমন প্রস্তুত ও জারীর সমুদয় খরচ বহন করবেন আবেদনকারীখ) সমন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সীলযুক্ত হতে হবে। গ) সমন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পক্ষে তার যে কোন কর্মচারী জারী করতে পারবেন। ঘ) সমন জারীর সময় তার উল্টা পৃষ্ঠে সমন গ্রহণ কারীর (প্রতিবাদী) বা তার পক্ষের কেহ স্বাক্ষর/ টীপসহি নিতে হবে। ঙ) সমন গ্রহণের কাউকে পাওয়া না গেলে সাক্ষী রেখে প্রতিবাদীর ঠিকানায় লটকিয়ে জারী করা যাবে। চ) প্রতিবাদীর ঠিকানা গ্রাম আদালতের এলাকার বাহিরে হলে রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে (প্রাপ্তী স্বীক্ষার সহ) জারী করা যাবে।

৭০। গ্রাম আদালতের মামলায় নকল সরবরাহ করা যাবে কী ?

উত্তর: হ্যাঁ যাবে। চেয়ারম্যান প্রতিপৃষ্ঠা বা এর অংশ বিশেষের জন্য ০৫ (পাঁচ) টাকা হারে ফিস জমা নিয়ে নকল বা ফটোকপি দিতে পারবেন।

৭১। গ্রাম আদালত বাস্থবায়নের প্রতিবেদন প্রেরণে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার এর দায়িত্ব ও সময় সীমা কী ?

উত্তর: ক) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রতি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন ১০ তারিখের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেবের বরাবর আবেদন গ্রহণ, নিষ্পত্তি ও পেন্ডিং বিষয়ে রির্পোট দিবেন। খ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেব প্রতিবেদন ২০ তারিখের মধ্যে উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার সাহেব বরাবর উক্ত প্রতিবেদন সমূহ সমন্বিত করে প্রেরণ করবেন। গ) উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রতি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে তা স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ নিশ্চিত করবেন এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা জজ সাহেবকে অনুলিপি দিবেন।

৭২। গ্রাম আদালত বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর ভূমিকা কী ?

উত্তর: ক) গ্রাম-আদালতের মামলা নিষ্পত্তি করণে চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিবেন খ) চেয়ারম্যান অযোগ্য হলে বা তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে মেম্বারদের মধ্য হতে একজনকে গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান মনোনীত করবেন। গ) চেয়ারম্যান নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত গ্রাম আদালতের কার্যবিধির ০৭ (সাত) দিন স্থগিত রাখতে পারবেন। ঘ) গ্রাম আদালত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হলে তার জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার হিসেবে চউজ অপঃ এর আওতায় মামলা নিয়ে অর্থ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবেন।

৭৩। গ্রাম আদালতের রেজিস্টার ও নথি সংরক্ষণের সময়সীমা কী ?

উত্তর: ক) রেজিস্টার সমূহ ১০ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।খ) নথি সমূহ ০৩ (তিন) বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

৭৪। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে আদায়কৃত অর্থ কত দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে ফেরৎ দিতে হবে?

উত্তর: আদায়ের ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণপূর্বক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ফেরৎ দিতে হবে।

৭৫। নথি দেখার অনুমতি গ্রাম আদালতে আছে কী ?

উত্তর: হ্যাঁ। যেকোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০ টাকাহারে ফিস গ্রহণ পূর্বক পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের নথি দেখার অনুমতি দিবেন।

৭৬। শুনানী মূলতবীর সময় সর্বোচ্চ কতদিন ?

উত্তর: বিচার সম্পাদনকালে গ্রাম আদালত পর্যাপ্ত কারণ থাকলে মামলার শুনানী মূলতবী করতে পারবেন। তবে তা প্রতিক্ষেত্রে ৭ দিনের বেশী হবে না।

৭৭। কোন প্রক্রিয়ায় গ্রাম আদালত আবেদনকারীকে উর্ধ্বতন আদালতে মামলা করতে পরামর্শ দিতে পারবেন?

উত্তর: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দরখাস্তকারী কিংবা প্রতিবাদী পক্ষ প্রতিনিধি মনোনয়নে ব্যর্থ হলে, দরখাস্তকারী উর্ধ্বতন আদালতে মামলা করতে পারবেন মর্মে গ্রাম আদালত সনদ প্রদান করতে পারবেন এবং আবেদরপত্রটি আবেদনকারীকে ফেরত প্রদান করবেন।

৭৮। মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় গ্রাম আদালত ভেঙ্গে গেলে সংক্ষুদ্ধ পক্ষের করণীয় কী ?

উত্তর: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ আদালত ভেঙ্গে গেলে, সংক্ষুদ্ধ পক্ষ আদালত ভেঙ্গে যাবার ৬০ দিনের মধ্যে উর্ধতন আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন

 

তফসিল

প্রথম অংশঃ ফৌজদারী মামলাসমূহ
১। দ-বিধির ধারা ৩২৩ বা ৪২৬ বা ৪৪৭ মোতাবেক কোন অপরাধ সংঘটন করা, বে-আইনী জনসমাবেশ সাধারণ উদ্দেশ্যে হইলে এবং উক্ত বে-আইনী জনসমাবেশে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা দশের অধিক না হইলে দ-বিধির ১৪৩ ও ১৪৭ ধারা, ১৪১ ধারা এর তৃতীয় বা চতুর্থ দফার সহিত পঠিতব্য।
২। দ-বিধির ধারা ১৬০,৩৩৪,৩৪১,৩৪২,৩৫২,৩৫৮,৫০৪,৫০৬ (প্রথম অংশ) ৫০৮, ৫০৯ এবং ৫১০।
৩। দ-বিধির ধারা ৩৭৯, ৩৮০ ও ৩৮১ যখন সংঘটিত অপরাধটি গবাদিপশু সংক্রান্ত হয় এবং গবাদিপশুর মূল্য অনধিক ৭৫ (পঁচাত্তর) হাজার টাকা হয়।
৪। দ-বিধির ধারা ৩৭৯,৩৮০ ও ৩৮১ যখন সংঘটিত অপরাধটি গবাদিপশু ছাড়া অন্য কোন সম্পত্তি সংক্রান্ত হয় এবং উক্ত সম্পত্তির মূল্য অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা হয়।
৫। দ-বিধির ধারা ৪০৩,৪০৬,৪১৭ ও ৪২০ যখন অপরাধ সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ অনধিক ৭৫ (পঁচাত্তর) হাজার টাকা হয়।
৬। দ-বিধির ধারা ৪২৭, যখন সংশ্লিষ্টসম্পত্তির মূল্য অনধিক ৭৫০০০/- (পঁচাত্তর হাজার) টাকা হয়।
৭। দ-বিধির ধারা ৪২৮ ও ৪২৯ যখন গবাদিপশুর মূল্য অনধিক ৭৫০০০/- (পঁচাত্তর হাজার) টাকা হয়।
৮। বিলুপ্ত

৯। উপর্যুক্ত যে কোন অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা বা উহা সংঘটনের সহায়তা প্রদান।
১. আমলযোগ্য অপরাধ: আমলযোগ্য অপরাধ বলতে সেই অপরাধ বোঝায় যে অপরাধের জন্য পুলিশ বিনা গ্রেপ্তারি পরওয়ানায় আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারে (ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪ দ্রষ্টব্য)।
২. তফসিলের প্রথম অংশে বর্ণিত কোন আমলযোগ্য অপরাধ সংশ্লিষ্ট মামলা গ্রাম আদালতে বিচার করা যাবে না যদি ঐ অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কোন ব্যক্তি ইতোপূর্বে গ্রাম আদালত কর্তৃক দ-প্রাপ্ত হয়ে থাকে।
৩. তফসিলের প্রথম অংশে বর্ণিত আইনসমূহ অর্থাৎ দ-বিধির সংশ্লিষ্ট ধারা সমূহে যেখানে আরাদ- বা জরিমানা শাস্তি হিসেবে বর্ণিত আছে, গ্রাম আদালত এ ধরনের কোন কারাদ- বা জরিমানা আদেশ করতে পারবে না।
৪. গ্রাম আদালত তফসিলের প্রথম অংশে বর্ণিত অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে কেবলমাত্র অনধিক ৭৫,০০০/- (পঁচাত্তর হাজার) টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করতে পারবে।
তফসিল
দ্বিতীয় অংশঃ দেওয়ানী মামলা সমূহ

১। কোন চুক্তি, রশিদ বা অন্য কোন দলিল মূল্যে প্রাপ্য অর্থ
আদায়ের জন্য মামলা।
২। কোন অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা উহার মূল্য আদায়ের জন্য
মামলা।
৩। স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার এক বৎসরের মধ্যে উহার দখল
পুনরুদ্ধারের মামলা।
৪। কোন অস্থাবর সম্পত্তির জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য
ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য মামলা।
৫। গবাদি পশু অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণের মামলা।
৬। কৃষি শ্রমিকদেরকে পরিশোধ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরন আদায়ের
মামলা।

* যখন দাবীকৃত অর্থের পরিমান অথবা অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য অথবা অপরাধ সংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য অনধিক ৭৫ (পচাত্তর) হাজার টাকা হয়

 

গ্রাম আদালত সংশ্লিষ্ট দন্ডবিধির ধারাসমূহের বঙ্গানুবাদ


অনুবাদটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নয়)

(অর্থদ-ের এখতিয়ার গ্রাম আদালতের এখতিয়ারের মতে বর্ণিত। এই ব্যাখ্যা গ্রাম আদালত ব্যতীত অন্য কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য নয়।)ধারা-৩২৩স্বেচ্ছায় আঘাত করিবার শাস্তি :

যদি কেহ স্বেচ্ছায় কাহাকেও আঘাত করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমান অর্থদন্ডে, দন্ডনীয় হইবে। ব্যাখ্যা : যে কাজে অন্যের দেহে ব্যথা লাগে সেই কাজকে আঘাত বলে। যে কাজের ফলে অন্যের শরীরে রোগ প্রবেশ করে তাকেও আঘাত বলে। যে কাজে অন্যের শরীরে বিকলতা আসে, সেই কাজকেও আঘাত বলা হয়। উদাহরণ: ক কোন প্ররোচনা ব্যতীত, সম্পূর্ণ বুঝে-জেনে, খ-কে একটি লাঠি দিয়ে ইচ্ছকৃতভাবে আঘাত করলে খ-এর পিঠে একটি সাধারণ ফোলা জখম হল। এই আঘাতকে ‘‘স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত’’ এবং ক-কে ‘‘স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাতকারী বলা চলে’’ ।

আরা- ৩৩৪

প্ররোচনার ফলে ইচ্ছাপূর্বক আঘাত করা :যদি মারাতœক ও আকস্মিক প্ররোচনায় প্ররোচিত হইয়া কেহ ইচ্ছপূর্বক আঘাত করে, যদি যে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে তাহাকে ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তিকে আঘাত করিবার ইচ্ছা পোষন না করিয়া থাকে, বা যে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে সেই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাহারও প্রতি আঘাত হইতে পারে বলিয়া তাহার জানা না থাকে তাহা হইলে আঘাতকারী এক মাস পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমান অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হইবে। উদাহরণ- খ কর্তৃক প্ররোচিত হয়ে ক, খ কে একটি লাঠি দিয়ে ইচ্ছাপূর্বক আঘাত করায় খ- এর পিঠে একটি সাধারণ ফোলা জখম হল। এই আঘাতকে প্ররোচিত হয়ে ইচ্ছপূর্বক আঘাত বলা চলে ।

ধারা ৪২৬

ক্ষতিসাধনের শাস্তি :যদি কোন ব্যক্তি কাহারো ক্ষতি সাধন করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত দন্ডনীয় হইবে। ব্যাখ্যা : দন্ডবিধির ৪২৫ ধারায় অনিষ্টের সংজ্ঞ প্রদান করা হয়েছে। এই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি জনসাধারণ বা কোন ব্যক্তির অন্যায়, লোকসান বা ক্ষতি করার অভিপ্রায়ে বা সে অনুরূপ লোকসান বা ক্ষতি করতে পারে জেনে কোন সম্পত্তি নষ্ট করে অথবা কোন সম্পত্তির কোন পরিবর্তন করে বা তার অবস্থানের কোন পরিবর্তন করে যার ফলে ঐ সম্পত্তির মূল্য বা উপযোগিতা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস পায় অথবা তা ক্ষতিকরভাবে আক্রান্ত হয়, সেই ব্যক্তি অনিষ্টসাধান করে বলে গণ্য হবে । অনিষ্টের অপরাধ সংঘটিত হতে হলে এটি জরুরী নয় যে অপরাধীর বিনষ্টকৃত বা ক্ষতিগ্রস্থ সম্পত্তির মালিকের লোকসান বা ক্ষতির অভিপ্রায় থাকতে হবে। এটি যথেষ্ট হবে যদি সে কোন সম্পত্তির ক্ষতি করে কোন ব্যক্তির অবৈধ লোকসান বা ক্ষতি করবার ইচ্ছা করে অথবা সে জানে যে অনুরূপ লোকসান বা ক্ষতিসাধনের সম্ভবনা আছে। সম্পত্তিটি ঐ ব্যক্তির মালিকানাধীন কিনা এটি বিবেচ্য নয়। যে ব্যক্তি কোন কাজ করে যা তার অথবা অন্যান্য ব্যক্তির এজমালি সম্পত্তিকে আক্রান্ত করে, এরূপ যেকোন কাজ দ্বারা অনিষ্ট সংগঠিত হতে পারে। উদাহরণ- খ এর লোকসান করবার ইচ্ছায় ক স্বেচ্ছায় খ এর আংটি নদীতে নিক্ষেপ করল। ক অনিষ্টের অপরাধ করল।

ধারা ৪৪৭

অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের শাস্তিঃযদি কেহ অনধিকার প্রবেশ করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমান অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হইবে। ব্যাখ্যা :দন্ডবিধির ৪৪১ ধারায় অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। সংজ্ঞাটি হল, যে ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির দখলীয় কোন সম্পত্তিতে বা সম্পত্তির উপর কোন অপরাধ করার ইচ্ছায় বা এইরূপ সম্পত্তির দখলে থাকা কোন ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শন,অপমান বা বিরক্ত করবার ইচ্ছায় প্রবেশ করে অথবা আইনানুগভাবে এরূপ কোন সম্পত্তিতে বা সম্পত্তির উপর প্রবেশ করে, ভীতি প্রদর্শন,অপমান বা বিরক্ত করবার অথবা কোন অপরাধ করবার ইচ্ছায় অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করে, সেই ব্যক্তি অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটিত করেছে বলে গণ্য হবে । উদাহরণ : ক এই ইচ্ছায় খ এর দখলী জমিতে প্রবেশ করল যে সেখান হতে জোরপূর্বক ধান কেটে নিয়ে যাবে। ক অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটিত করল ।

ধারা ১৪৩

বেআইনী সমাবেশে যোগদান করার শাস্তি :যদি কোন ব্যক্তি কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদান করে, তাহা হইলে সে ৭৫০০০/- (পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হইবে । ব্যাখ্যা : বিবেচ্য বিচার্য হচ্ছে এটি দেখা যে সংশ্লিষ্ট সমাবেশে পাঁচ হতে দশ জন (৫ হতে ১০ জন) লোকের সমাবেশ ঘটেছিল কিনা এবং ওই সমাবেশের ব্যক্তিবর্গের উদ্দেশ্য একই ছিল কিনা এবং দন্ডবিধির ১৪১ ধারায় বর্ণিত পাঁচ প্রকার অপরাধের তৃতীয়টি অথবা চতুর্থটির যে কোন একটি অপরাধ সংঘটিত করা ওই সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল কিনা। কোন সমাবেশে এই সবগুলি উপাদান উপস্থিত হলে সেটিকে বেআইনী সমাবেশ বলা যায়। তৃতীয়টি হচ্ছে যে কোন অনিষ্টকর কার্য বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ বা অন্য প্রকার অপরাধ সংঘটিত করা। চতুর্থটি হচ্ছে- বেআইনী ভয় দেখিয়ে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের ভান করে সম্পত্তি দখল করা অথবা পথ বা পানির ব্যবহার করা অথবা অধিকার হতে বঞ্চিত করা। উদাহরণ- ক, খ, গ, ঘ, ঙ এবং চ বুঝে জেনে ,একই উদ্ধেশ্যে অনুপ্রানিতক এবং একত্রিত হয়ে ভ-এর যে রাস্তা দিয়ে চলবার অধিকার এবং ইচ্ছা আছে সেই রাস্তায় দৈহিকভাবে বাধা সৃষ্টি করে অথবা সেই রাস্তায় চলাচলের সময় অসুবিধা সৃষ্টির ভয় দেখায় যেন ভ এর চলাচলে বাধা বা অসুবিধা সৃষ্টি হয়। ক, খ, গ, ঘ, ঙ এবং চ এর এই সমাবেশকে বেআইনী সমাবেশ বলা চলে । ক, খ, গ, ঘ, ঙ এবং চ এদের প্রত্যেককে, এবং অন্য কেহ সমাবেশের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে বুঝে-জেনে বা সমাবেশের উদ্দেশ্য জানবার পর অবস্থান করে সমাবেশে শরীক হলে তাকেও বেআইনী সমাবেশে অংশগ্রহণের অপরাধে দায়ী করা যায় ।

ধারা-১৪৭

বেআইনী সমাবেশে যোগদান করার শাস্তি :কোন ব্যক্তি দাঙ্গা করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইলে সে ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হইবে । ব্যাখ্যা : বেইআনী সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে ঐ সমাবেশে কেহ দৈহিক বল-প্রয়োগ করলে তাকে দাঙ্গার অপরাধে দায়ী করা যায় । উদাহরণ : ক, খ, গ, ঘ, ঙ এবং চ বুঝে-জেনে কোন ব্যক্তির বাড়ি লুট করা কিংবা সম্পত্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে মারপিট করার উদ্দেশ্যে অনুপ্রাণিত ও একত্রিত হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামাতে অংশগ্রহন করে। ক, খ, গ, ঘ, ঙ এবং চ এদের প্রত্যেককে, এবং অন্য কেহ যদি সমাবেশের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে বুঝে-জেনে বা সমাবেশের উদ্দেশ্য জানবার পর অবস্থান করে সমাবেশে শরীক হয় এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামাকে অংশগ্রহণ করে তবে তাদের প্রত্যেককে দাঙ্গার অপরাধে এবং বেআইনী সমাবেশে অংশগ্রহণের অপরাধে দায়ী করা যায় ।

ধারা -১৪১

বেআইনী সমাবেশ :পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশকে বেআইনী সমাবেশ বলা হয়। যদি উক্ত সমাবেশে ব্যক্তিদের সাধারণ উদ্দেশ্য হয়, তৃতীয় : কোন অনিষ্টকর কার্য বা অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ কিংবা অন্য কোন অপরাধ সংঘটন করা অথবা চতুর্থ : কোন ব্যক্তির প্রতি অপরাধজনক বলপ্রয়োগ করিয়া বা অপরাধজনক বল প্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করিয়া কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করা কিংবা কোন ব্যক্তিপক্ষের অধিকার ভোগ হইতে বঞ্চিত করা কিংবা পানি ব্যবহারের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা কিংবা তাহাকে তাহার ভোগদখলে থাকা অন্য কোন অশরীরী অধিকার হইতে বঞ্চিত করা কিংবা কোন অধিকার বা কল্পিত অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ।

ধারা-১৬০

কলহ বা মারামারির শাস্তি :কেহ কলহ বা মারামারির অপরাধ সংঘটন করিলে তজ্জন্য সে একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমান অর্থদন্ডে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা : দন্ডবিধির ১৫৯ ধারায় মারামারির সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। সংজ্ঞাটি হল যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে মারপিট করে জনশান্তি বিঘিœত করে তারা মারামারি করে বলে গণ্য হয়। উদাহরণ- ক বাজারের মধ্যে খ-কে ঘুসি মারল এবং জবাবে খ ও ক কে কিল ঘুসি মারল। ক ও খ উভয়েই মারামারির অপরাধ করেছে ।

ধারা ৩৪১

অন্যায় নিয়ন্ত্রণের শাস্তি :যদি কেহ কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে বাধাগ্রস্থ করে তাহা হইলে সে পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমান অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হইবে । ব্যাখ্যা : আইনের ব্যাখ্যানুযায়ী, কোন ব্যক্তিকে, তার যেদিকে যাবার অধিকার এবং ইচ্ছ আছে সেইদিকে যাওয়া হতে নিরস্ত করবার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অসুবিধা সৃষ্টি করাকে বা বাধা দেয়াকে ‘‘অবৈধ বাধা’’ বলা চলে। এই অসুবিধা বা অন্তরায় বা প্রতিবন্ধকতা বাস্তবিকভাবে অথবা শুধু ভয় দেখিয়েও হতে পরে। উদাহরণ- ক-এর যে রাস্তা দিয়ে চলবার অধিকার আছে খ সেই রাস্তায় দৈহিকভাবে বাধা সৃষ্টি করে অথবা সেই রাস্তায় চলাচলের সময় চলাচলের সময় অসুবিধা সৃষ্টির ভয় দেখায় যেন ত- এর চলাচলে বাধা বা অসুবিধা সৃষ্টি হয়। খ-এর এই বাধাকে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ‘‘অবৈধ বাধা’’ বলা চলে।

ধারা-৩৪২

অন্যায় আটকের শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি কাহাকেও আটক রাখে, তাহা হইলে সে এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী,কোন ব্যক্তিকে, তার যেদিকে যাবার অধিকার এবং ইচ্ছা আছেসেই দিকে যাওয়া হতে নিরস্ত করবার ইচ্ছাকৃতভাবে অসুবিধা সৃষ্টি করাকে বা বাধা দেয়াকে, ‘‘অবৈধ বাধা’’ বলা চলে। এই অসুবিধা বা অন্তরায় বা প্রতিবন্ধকতা বাস্তবিকভাবে অথবা শুধু ভয় দেখিয়েও হতে পারে। উদাহরণ- ক- এর যে রাস্তা দিয়ে চলবার অধিকার আছে খ সেই রাস্তায় দৈহিকভাবে বাধা সৃষ্টি করে অথবা সেই রাস্তায় চলাচলের সময় চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টির ভয় দেখায় যেন ক-এর চলাচলে বাধা বা অসুবিধা সৃষ্টি হয়। খ-এর এই বাধাকে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ‘‘অবৈধ বাধা’’ বলা চলে। এভাবে যদি ক রাস্তায় চলাচলে বাধাপ্রাপ্ত হয় তবে এখানে খ অবৈধ্যভাবে বাধা দিয়েছে বলা চলে।

ধারা-৩৫২

গুরুতর প্ররোচনা ব্যতীত আক্রমন কিংবা অপরাধজনক বলপ্রয়োগের শস্তিঃমারাতœক ও আকষ্মিক প্ররোচনা ব্যতীত যদি কেহ কাহাকে আঘাত করে বা তাহার উপর অপরাধজনক বল প্রয়োগ করে তাহা হইলে সে পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা ১: মারাতœক ও আকষ্মিক প্ররোচনা এই ধারা অনুসারে কোন অপরাধের জন্য বিহিত দ- লাঘব করিবে না যদি -প্ররোচনাটি অপরাধী অজুহাতস্বরূপ স্বয়ং কামনা করিয়া থাকে বা স্বেচ্ছায় উহার উস্কানি দিয়া থাকে, কিংবা প্ররোচনাটি মান্য করিয়া অনুষ্ঠিত কোন কার্যের ফলে অথবা কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক আইনানুসারে উক্ত সরকারী কর্মচারী ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া অনুষ্ঠিত কোন কার্যের ফলে ঘটিয়া থাকে, কিংবা আতœরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগ করিয়া কৃত কোন কার্যের ফলে প্ররোচনাটি ঘটিয়া থাকে। প্ররোচনাটি এমন মারাতœক ও আকষ্মিক ছিল কিনা যাহার ফলে দ- লাঘব হইতে পারে, তাহা ঘটনাগত প্রশ্ন। ব্যাখ্যা ২: দ-বিধির ৩৫০ ধারায় অপরাধজনক বলপ্রয়োগের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। সংজ্ঞাটি হল, যে কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন ব্যক্তির উপর তার সম্মতি ছাড়া বলপ্রয়োগ করে কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অথবা যে ব্যক্তির উপর এ ধরণের বলপ্রয়োগ করা হয়েছে তার ক্ষতি, ভয়-ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেকের ইচ্ছায়, বা এ ধরণের বলপ্রয়োগের ফলে যে ব্যক্তির উপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে তার ক্ষতি, ভীতি বা বিরক্তির উদ্রেক হতে পারে জেনে তার উপর বলপ্রয়োগ করে; সেই ব্যক্তি উল্লিখিত অপর ব্যক্তির উপর অপরাধজনক বলপ্রয়োগ করেছে বলে গণ্য হবে। উদাহরণ-ক ইচ্ছাকৃতভাবে খ-কে রাস্তায় ধাক্কা মারে। এখানে ক তার নিজের শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে তার শরীর এমনভাবে সরিয়েছে যার ফলে খ এর সাথে ধাক্কা লেগেছে। এই ভাবে সে খ এর উপর বলপ্রয়োগ করেছে; এবং সে যদি খ এর সম্মতি ছাড়া এরূপ করে এই অভিপ্রায়ে বা জ্ঞানে যে এর ফলশ্রুতিতে সে খ এর ক্ষতি, ভীতি বা রাগের উদ্রেগ ঘটাতে পারে তা হলে সে খ এর উপর অপরাধজনক বলপ্রয়োগ করল।

ধারা-৩৫৮

মারাতœক প্ররোচনার ফলে আক্রমণ করা কিংবা অপরাধজনক বলপ্রয়োগ করাঃযদি কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির মারাতœক আকষ্মিক প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হইয়া সেই ব্যক্তিকে আঘাত করে কিংবা তাহার উপর অপরাধজনকভাবে বলপ্রয়োগ করে, তাহা হইলে সে দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা ১ : উপরের ধারাটি ৩৫২ ধারার অনুরূপ ব্যাখ্যা সাপেক্ষে। ব্যাখ্যা ২ : দ-বিধির ধারা ৩৫২ এর ব্যাখ্যাতে অপরাধজনক বলপ্রয়োগের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। দ-বিধির ধারা ৩৫১-তে আক্রমণের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। সংজ্ঞাটি হল, যে ব্যক্তি এই অভিপ্রায়ে বা জ্ঞানে কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা প্রস্তুতি নেয় যা কোন উপস্থিত ব্যক্তির মনে এরূপ আংশকা জন্মাবে যে, যে ব্যক্তি ঐ অঙ্গভঙ্গি করে বা প্রস্তুতি করে বা প্রস্তুতি নেয় সে ঐ ব্যক্তির উপর অপরাধজনক বলপ্রয়োগ করতে যাচ্ছে, সেই ব্যক্তি আক্রমণ করে বলে গণ্য হবে। এই ধারা তখনই প্রযোজ্য হবে যখন ভিকটিমের গুরুতর এবং হঠাৎ প্ররোচনার ফলে আক্রমণ বা অপরাধজনক বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটে। উদাহরণ- ক - কে অশ্লীল গালি দেবার সাথে সাথে ক একটি লাঠি নিয়ে খ কে মারতে উদ্যত হল। ক দ-বিধির ৩৫৮ ধারার অপরাধ করল।

ধারা-৫০৪

শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্য ইচ্ছাকৃত ভাবে প্ররোচনা বা অপমান করাঃযদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে অপমান করে এবং তদ্বারা তাহাকে প্ররোচনা দান করে এরূপ প্ররোচনা ফলে যাহাতে সেই ব্যক্তি শান্তিভঙ্গ বা অন্য কোন অপরাধ করে, তদুদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ প্ররোচনার ফলে সেই ব্যক্তি শান্তিভঙ্গ করিতে পারে বা অন্য কোন অপরাধ করিতে পারে বলিয়া জানা সত্ত্বেও যদি তাহা করে, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ৭৫০০০/- (পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে যদি, এমনভাবে অপমান ও প্ররোচিত করা হয় যার দ্বারা অপমানিত ব্যক্তি কর্তৃক শান্তিভঙ্গ বা অন্য কোন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে, তবে এই ধারার বিধান অনুযায়ী তা দ-নীয় অপরাধ হবে। উদাহরণ- ক সম্পূর্ণরূপে ফলাফল বুঝে-জেনে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে খ-কে এমনভাবে অপমান করল এবং তদ্বারা তাকে প্ররোচনা দান করল যাতে অনুরূপ প্ররোচনার ফলে খ অপমানিত হয়ে শান্তিভঙ্গ বা অন্য কোন অপরাধ করে। ক-এর এরূপ কাজ এই ধারার অধীনে বিচার্য। এখানে ক এই ধারার বিধানানুযায়ী ‘‘ইচ্ছাকৃতভাবে প্ররোচনা ও অপমান’’ করেছে বলে এই ধারার বিধানানুযায়ী তা দ-নীয় অপরাধ হবে।

ধারা-৫০৬ (প্রথম অংশ)

অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি অপরাধজনক ভীতিপ্রদর্শন করে, তাহা হইলে সেই ৭৫০০০/- (পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: যদি কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে তার দেহের, খ্যাতির, সম্পত্তির কিংবা সে ব্যক্তির সাথে যার স্বার্থ জড়িত আছে এমন কোন ব্যক্তির দেহের বা খ্যাতির ক্ষতি করবার হুমকি দেয় অথবা সে ব্যক্তিকে এরূপ ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য এমন কোন কাজ করতে বাধ্য করে যা আইনত সে করতে পারেনা অথবা কোন কাজ করা থেকে বিরত করে যা সে আইনত করতে পারে, ঐ ব্যক্তি অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন করে। উদাহরণ- ক একটি দেওয়ানী মামলা থেকে খ কে বিরত রাখার জন্য খ এর বাড়ী পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিল। ক অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন করল যা এই ধারার বিধান অনুযায়ী দ-নীয় অপরাধ।

ধারা-৫০৮

কোন ব্যক্তিকে বিধাতার বিরাগভাজন হইবে এইরূপ বিশ্বাস জন্মাইয়া কোন কাজ করানোর শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি কাহাকেও এরূপ বিশ্বাস করায় যে, সে যে কাজটি করিতে আইনত বাধ্য নয়, যে কার্যটি যদি সে না করে। কিংবা যে কার্য করিতে আইনত বাধ্য সে কার্যটি করা হইতে বিরত না হয়, তাহা হইলে প্রথমোক্ত ব্যক্তি স্বীয় কোন কার্য দ্বারা তাহার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, অন্য কোন ব্যক্তিকে বিধাতার রোষানলে পতিত করিবে এবং ইচ্ছাপূর্বক এইরূপ বিশ্বাস সৃষ্টি করিয়া তাহাকে দিয়া উদ্দিষ্ট কার্যটি করায় বা করা হইতে বিরত রাখে কিংবা করাইবার, বা করা হইতে বিরত রাখিবার চেষ্টা করে, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে, অপর ব্যক্তি অথবা তার সাথে স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কারো প্রতি ঐশ্বরিক বালা-মুসিবত নেমে আসবার ভীতি প্রদর্শন করে যদি, উক্ত অপর ব্যক্তিকে দিয়ে এমন কোন কাজ করায় বা করতে চেষ্টা করে অথবা কোন একটি কাজ করা হতে বিরত রাখে বা রাখতে চেষ্টা করে; তবে এই ধারার বিধানানুযায়ী তা দ-নীয় অপরাধ হবে। উদাহরণ-ক, খ - এর দরজায় ধর্ণা দিয়ে বসে থেকে এটি বিশ্বাস করাতে চায় যে, এর ফলে খ এর জন্য ঐশ্বরিক বালা-মুসবিত নেমে আসবে এবং এভাবে যে খ কে দিয়ে কোন একটি কাজ করায় বা করাতে চেষ্টা করে অথবা কোন একটি কাজ করা হতে বিরত রাখে বা রাখতে চেষ্টা করে। আইন ক এর এই কাজটিকে একটি অপরাধমূূলক কাজ গণ্য করবে। ক-এর এরূপ অপরাধমূূলক কাজ এই ধারার অধীনে বিচার্য। এখানে ক ‘‘অপরাধ মূলক ভীতি প্রদর্শন’’ করেছে বলে এই ধারার বিধানানুযায়ী তা দ-নীয় অপরাধ হবে।

ধারা-৫০৯

কোন নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে কথা, অঙ্গভঙ্গী বা কোন কাজ করার শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি কোন নারীর শ্লীলতাহানীর উদ্দেশ্যে শুনিতে পায় এমনভাবে কোন কথা বলে বা শব্দ করে কিংবা সেই নারী যাহাতে দেখিতে পায় এমনভাবে কোন অঙ্গভঙ্গী করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে, কিংবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি ৭৫০০০/- (পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: নারীর শ্লীলতাকে অপমানের উদ্দেশ্যে, কোন কথা বলে বা শব্দ করে কিংবা কোন অঙ্গভঙ্গী করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে, কোন নারীর শ্লীলতাকে অপমান করলে অথবা কোন নারীর গোপনীয়তা লংঘন করলে, এরূপ অপরাধমূলক কাজ এই ধারার বিধানানুযায়ী দ-নীয় অপরাধ হবে। উদাহরণ-ক বুঝে- জেনে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে একইগ্রামের একজন নারী খ-কে সে শুনতে পায় এমনভাবে কোন কথা বলে বা শব্দ করে কিংবা খ যাতে দেখতে পায় এমনভাবে কোন অঙ্গভঙ্গী করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে অথবা খ-এর গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে। ক-এর এরূপ অপরাধমূলক কাজ এই ধারার অধীনে বিচার্য। এখানে ক এই ধারার বিধানানুযায়ী দ-নীয় ‘‘নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গী বা কোন কাজ করার’’ অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

ধারা-৫১০

মাতাল ব্যক্তির প্রকাশ্যে অসদাচরণে শাস্তি:যদি কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোন প্রকাশ্য স্থানে গমন করে, বা কোন স্থানে অনধিকার প্রবেশ করে এবং এমন আচরণ করে, যাহার ফলে কাহারও বিরক্তি ঘটে, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি দশ টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোন প্রকাশ্য স্থানে গিয়ে অথবা অন্য কোন ব্যক্তির দখলে থাকা কোন স্থানে অনধিকার প্রবেশ করে কারো বিরক্তির উদ্রেক করলে এরূপ অপরাধমূলক কাজ এই ধারার বিধানানুযায়ী দ-নীয় অপরাধ হবে। উদাহরণ- ক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোন প্রকাশ্য স্থানে গিয়ে অথবা খ- এর বাসায় যেয়ে এমন কিছু করে যা কারো বা খ- এর বিরক্তি উদ্রেক করলো। এখানে ক এই ধারার বিধানানুযায়ী দ-নীয় অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

ধারা-৩৭৯

চুরির শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি চুরি করে, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তির সম্মতি ব্যতিরেকে তার দখলাধীন কোন সম্পত্তি, অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অসৎ উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করাকে চুরি বলা হয়। উদাহরণ ৩৭৯- আইনানুযায়ী ব্যতীত অন্য কোনভাবে, ক. সম্পূর্ণরূপে বুঝে-জেনে খ-এর দখলে থাকা জমি হতে একটি গাছ কাটে। সে খ-এর সম্মতি ছাড়াই গাছটি নিয়ে যাবার অভিপ্রায়ে কাজটি করে। এখানে ক খ-এর জমি হতে গাছটি নিয়ে যাবার ইচ্ছায় গাছটি কাটার সঙ্গে সঙ্গে চুরির অপরাধ হয়েছে। ক-এর এরূপ অপরাধ এই ধারার অধীনে বিচার্য। এখানে ক ‘‘চুরি’’ করেছে বলে গণ্য হবে।

ধারা-৩৮০

বাসগৃহ ইত্যাদিতে চুরিঃযদি কোন ব্যক্তি কোন গৃহ, তাঁবু বা জলযানে চুরি করে, যে গৃহ, তাঁবু বা জলযানে মানুষের বাসস্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয় কিংবা সম্পত্তি হেফাজতের জন্য ব্যবহৃত হয় তাহা হইলে সে ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। উদাহরণ- আইনানুযায়ী ব্যতীত অন্য কোনভাবে, ক সম্পূর্ণরূপে বুঝে-জেনে খ-এর দখলে থাকা কোন গৃহ, অথবা,যে গৃহ মানুষের বাসস্থান হিসেবে কিংবা সম্পত্তি হেফাজতের জন্য ব্যবহৃত হয় (যেমন, গুদাম) এরূপ কোন স্থান হতে একটি অস্থাবর সম্পত্তিকে স্থানান্তর করে। সে খ- এর সম্মতি ছাড়াই অস্থাবর সম্পত্তিটি নিয়ে যাবার ইচ্ছায় স্থানান্তর করবার সঙ্গে সঙ্গে চুরির অপরাধ হয়েছে। ক-এর এরূপ অপরাধ এই ধারার অধীনে বিচার্য। এখানে ‘‘বাসগৃহ ইত্যাদিতে চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

ধারা-৩৮১

কর্মচারী বা চাকর কর্তৃক মালিকের দখলভূক্ত সম্পত্তি চুরির শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি, কর্মচারী বা ভৃত্য হওয়া সত্ত্বেও, কিংবা কর্মচারী বা ভৃত্যের কাজে নিয়োজিত হওয়া সত্ত্বেও তাহার প্রভুর বা মালিকের দখলভূক্ত সম্পত্তি চুরি করে, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। উদাহরণ: ১- আইনানুযায়ী ব্যতীত অন্য কোন ভাবে, খ-এর কর্মচারী বা চাকর ক সম্পূর্ণরূপে বুঝে-জেনে খ-এর দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তিকে স্থানান্তর করে। সে খ-এর দখল হতে অস্থাবর সম্পত্তিটি নিয়ে যাবার ইচ্ছায় স্থানান্তর করবার সঙ্গে সঙ্গে চুরির অপরাধ হয়েছে। ক- এর এরূপ অপরাধ এই ধারার অধীনে বিচার্য। এখানে ক-কর্তৃক ‘‘কর্মচারী বা চাকর কর্তৃক মালিকের দখলভূক্ত সম্পত্তি চুরির’’ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। উদাহরণ:-২- ‘‘খ’’ ‘‘ক’’- এর চাকর। ‘‘খ’’ ‘‘ক’’- কে তার ছাগলের পাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছে। ‘খ’ ক-এর সম্মতি ছাড়াই ছাগলের পালটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ‘ক’-এর এরূপ অপরাধ এই ধারার অধীনে বিচার্য। এখানে কর্তৃক ‘‘কর্মচারী বা চাকর কর্তৃক মালিকের দখলভূক্ত সম্পত্তি চুরির’’ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

ধারা-৪০৩

অসাধুভাবে সম্পত্তি আতœসাৎ করার শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আতœসাৎ করে কিংবা উহা তাহার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা ১: অসাধু আতœসাৎ হবে তখন যখন এ ধারার অধীন আতœসাৎ হবে। ব্যাখ্যা ২: কোন ব্যক্তি কারো দখলে নেই সম্পত্তি যদি রক্ষা করার জন্য অথবা মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রহণ করে, তবে সম্পত্তিটি সে অসাধুভাবে গ্রহণ করেনি বা আতœসাৎ করেনি, এবং কোন অপরাধে অপরাধী হয়নি; তবে সে উল্লিখিত অপরাধে অপরাধী হবে যখন মালিককে সে চেনে অথবা মালিককে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ থাকে অথবা মালিককে পাওয়ার গ্রহণযোগ্য উপায় অবলম্বন না করে এবং মালিককে নোটিশ না দেয় এবং সম্পত্তিটি মালিকের দাবির জন্য গ্রহণযোগ্য সময় না রেখে যদি সে ইহা নিজে ব্যবহারের জন্য আতœসাৎ করে। উদাহরণ- ক ও খ দুইজনে একটা রিক্সার মালিক। নিজে ব্যবহার করিবার জন্য ক একদিন রিক্সাটা নিয়ে যায়। এখানে সে কোন অপরাধ করে নাই। তবে যখন সে রিক্সাটা বা তার আয় খ-কে ফেরত না দিয়ে একাই ভোগ দখল করে তখন সে আতœসাৎ এর অপরাধে অপরাধী।

ধারা-৪০৬

অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে, তাহা হইলে সে ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: প্রকাশ্য বা উহ্য যে কোন আইনী চুক্তির দ্বারা ন্যস্তকৃত বিশ্বাসের বলে, অপরের কোন বস্তুগত বা অবস্তুগত সম্পত্তির অথবা বৈষয়িক - অধিকারের নিয়ন্ত্রণ বা অথবা রক্ষণাবেক্ষণ দায়িত্বে থেকে উক্ত চুক্তির শর্তের চেয়ে অতিরিক্ত বৈষয়িক লাভ গ্রহণ বা শর্তভঙ্গ করার মাধ্যমে আমানতকারীর খেয়ানত দ্বারা অভিযোগকারী বা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিসাধন হলে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ সংঘটিত হয়। উদাহরণ- ১- খ- এর দখলে থাকা কোন সম্পত্তির রক্ষাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় খ-এর সম্মতি ব্যতীতই ক সম্পূর্ণরূপে বুঝে-জেনে সম্পত্তিটি নিজের ব্যবহারে এনে ভোগ দখল করাবর অথবা নিজের সম্পত্তি হিসেবে বিক্রি করবার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ হয়েছে। ক-এর এরূপ অপরাধ এই ধারার অধীনে বিচার্য।

ধারা-৪১৭

প্রতারণার শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি প্রতারণা করে, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি কর্তৃক অসাধু ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অসত্য কোনকিছু বিশ্বাস করানোর মাধ্যমে, কোন সম্পত্তি প্রদানে কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ করতে দিতে সম্মত হতে অন্য কোন ব্যক্তিকে প্ররোচিত করার দ্বারা; কিংবা দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তি কর্তৃক কোন কিছু করানোর দ্বারা বা কোন কিছু করা হতে বিরত রাখার দ্বারা; উক্তরূপে প্রতারিত ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন হলে বা ক্ষতিসাধন হবার সম্ভবনা উদ্ভব হলে প্রতারণার অপরাধ সংঘটিত হয়। উদাহরণ-ক কোন একটি গিল্টি করা গয়নাকে সোনার গয়না হিসেবে খ-এর কাছে বিক্রি করে দেয়। সে খ-এর কাছে সম্পূর্ণরূপে বুঝে-জেনে কাজটি করে। এখানে ক গিল্টি করা গয়না সোনার গয়না হিসেবে খ-এর কাছে বিক্রি করবার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার অপরাধ হয়েছে। ক-এর এরূপ অপরাধ এই ধারার অধীনে বিচার্য।

ধারা-৪২০

প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি অর্পন করিতে প্রবৃত্ত করার শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি প্রতারণা করে এবং প্রতারিত ব্যক্তিকে অসাধুভাবে অন্য কোন ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্রবৃত্ত করে, কিংবা অসাধুভাবে প্রতারিত ব্যক্তিকে কোন মূল্যবান জামানতের সমুদয় বা অংশ বিশেষ প্রণয়ন, পরিবর্তন বা বিনাশসাধনে প্রবৃত্ত করে, কিংবা অসাধুভাবে প্রতারিত ব্যক্তিকে জামানত হিসাবে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তুর সমুদয় বা অংশ বিশেষ প্রণয়ন, পরিবর্তন বা বিনাশসাধনে প্রবৃত্ত করে তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি কর্তৃক অসাধু ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অসত্য কোনকিছু বিশ্বাস করানোর মাধ্যমে, কোন সম্পত্তি প্রদানে কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ করতে দিতে সম্মত হতে অন্য কোন ব্যক্তিকে প্ররোচিত করার দ্বারা; কিংবা প্রতারিত ব্যক্তিকে কোন মূল্যবান জামানতের অথবা জামানত হিসাবে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তুর সমুদয় বা অংশ বিশেষ প্রণয়ন, পরিবর্তন বা বিনাশসাধন করা বা করতে দিতে সম্মত হবার দ্বারা; উক্তরূপে প্রতারিত ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম, বা সম্পত্তি ক্ষতিসাধন হলে বা ক্ষতিসাধন হবার সম্ভাবনা উদ্ভব হলে এই ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়। উদাহরণ- ক-কোন একটি জাল চেককে আসল চেক হিসেবে একটি বাণিজ্যিক লেনদেন পাওনা পরিশোধ বাবদ খ-এর কাছে হস্তান্তর করে। সে সম্পূর্ণরূপে বুঝে-জেনে কাজটি করে। এখানে ক জাল চেককে আসল চেক হিসেবে খ-এর কাছে হস্তান্তর করবার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি অর্পন করিতে প্রবৃত্ত করার অপরাধ হয়েছে। ক-এর এরূপ অপরাধ এই ধারার অধীনে বিচার্য। অসৎভাবে কোন কিছু গোপন করলে তা’ও প্রতারণা হিসাবে গণ্য হতে পারে যা এই ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ধারা-৪২৭

অনিষ্ট করিয়া পঞ্চাশ টাকা বা উহার অধিক ক্ষতিসাধনের শাস্তিযদি কোন ব্যক্তি অনিষ্ট সাধন করে এবং তদ্বারা পঞ্চাশ টাকা বা তদূর্ধ্ব পরিমাণ অর্থের ক্ষতি করে, তাহা হইলে সেই ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: দ-বিধির ৪২৫ ধারায় অনিষ্টের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে,যে ব্যক্তি জনসাধারণ বা কোন ব্যক্তির অন্যায় লোকসান বা ক্ষতি করার অভিপ্রায়ে বা সে অনুরূপ লোকসান বা ক্ষতি করতে পারে জেনে কোন সম্পত্তি নষ্ট করে অথবা কোন সম্পত্তির কোন পরিবর্তন করে বা তার অবস্থানের কোন পরিবর্তন করে যার ফলে ঐ সম্পত্তির মূল্য বা উপযোগীতা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস পায় অথবা তা ক্ষতিকরভাবে আক্রান্ত হয়, সেই ব্যক্তি অনিষ্টসাধন করে বলে গণ্য হইবে। অনিষ্টের অপরাধ সংঘটিত হতে হলে এটি জরুরী নয় যে, অপরাধীর বিনষ্টকৃত বা ক্ষতিগ্রস্থ সম্পত্তির মালিকের লোকসান বা ক্ষতির অভিপ্রায় থাকতে হবে। এক্ষেত্রে এটিই যথেষ্ট হবে যদি যে কোন সম্পত্তির ক্ষতি করে কোন ব্যক্তির অবৈধ লোকসান বা ক্ষতি করবার ইচ্ছা করে অথবা সে জানে যে অনুরূপ লোকসান বা ক্ষতিসাধন সম্ভবনা আছে। সম্পত্তিটি ঐ ব্যক্তির মালিকানাধীন কিনা এটি বিবেচ্য নয়। যে ব্যক্তি কোন কাজ করে যা তার অথবা অন্যান্য ব্যক্তির এজমালি সম্পত্তিকে আক্রান্ত করে এরূপ যে কোন কাজ দ্বারা অনিষ্ট সংগঠিত হতে পারে। উদাহরণ- খ- এর লোকসান করবার ইচ্ছায় ক-এর আংটি নদীতে নিক্ষেপ করল। ক অনিষ্টের অপরাধ করল।

ধারা-৪২৮

দশটাকা বা তদূর্দ্ধ মূল্যের পশু হত্যা বা বিকলাঙ্গ করিয়া অনিষ্টসাধনের শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি দশ টাকা বা তদুর্ধ্ব মূল্যের কোন একটি বা একাধিক পশু হত্যা করিয়া, বিষ প্রয়োগ করিয়া, বিকলাঙ্গ করিয়া বা অকেজো করিয়া অনিষ্ট সাধন করে, তাহা হইলে সে ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি যদি আইনানুযায়ী ব্যতীত অন্য কোনভাবে, অপর কোন ব্যক্তির দখলে থাকা কোন জন্তুর, ধ্বংস বা এমনভাবে ক্ষতিসাধন করে অথবা সম্পত্তিটির কিংবা তার কোন একটি অংশের এমন পরিবর্তন করে যে, উক্ত সম্পত্তিটির মূল্য নষ্ট হয়ে যায় বা কমে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি ‘‘অনিষ্টসাধন’’ করেছে বলে তাকে ‘‘অতিষ্টসাধনকারী’’ বলা যেতে পারে। উদাহরণ- আইনানুযায়ী ব্যতীত অন্য কোনভাবে, ক সম্পূূর্ণভাবে বুঝে-জেনে খ-এর দখলে থাকা/মালিকানাধীন, দশটাকা বা তদূর্ধ্ব মূল্যের, এক বা একাধিক হাতি, উট, ঘোড়া, খচ্চর, মহিষ, ষাঁড়, গাভী অথবা অন্য কোন পশু হত্যা করে, বিষ প্রয়োগ করে, বিকলাঙ্গ করে বা অকেজো করে পশুটির অবস্থার এমন পরিবর্তন করল যে, উক্ত পশুটির মূল্য নষ্ট হয়ে গেল বা কমে গেল। ক-এর এরূপ অনিষ্টসাধন এই ধারার অধীনে বিচার্য, এবং এই ধারার বিধানানুযায়ী ক-এর অপারাধ প্রমাণ হলে ক-কে ‘‘অনিষ্টসাধনের অপরাধে অপরাধী’’ বলা যেতে পারে।

ধারা-৪২৯

যেকোন মূল্যের গবাদি পশু ইত্যাদি অথবা পঞ্চাশ টাকা মূল্যের যেকোন পশুকে হত্যা বা বিকলাঙ্গ করিয়া অনিষ্টসাধনে শাস্তিঃযদি কোন ব্যক্তি যেকোন মূল্যের হাতি, উট, ঘোড়া, খচ্চর, মহিষ, ষাঁড়, গাভী বা গরু, কিংবা পঞ্চাশ টাকা বা তদূর্ধ্ব মূল্যের অন্য কোন পশুকে হত্যা করিয়া, বিষ প্রয়োগ করিয়া, বিকলাঙ্গ করিয়া বা অকেজো করিয়া অনিষ্টসাধন করে, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ৭৫০০০/-(পঁচাত্তর হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে দ-নীয় হইবে। উদাহরণ- আইনানুযায়ী ব্যতীত অন্য কোন ভাবে ক-সম্পূর্ণরূপে বুঝে-জেনে খ-এর দখলে থাকা যে কোন মূল্যের গবাদি পশু ইত্যাদি অথবা পঞ্চাশ টাকা বা তার চেয়ে বেশী মূল্যের অন্য যে কোন পশুকে হত্যা করে, বিষ প্রয়োগ করে, বিকলাঙ্গ করে বা অকেজো করে পশুটির অবস্থায় এমন পরিবর্তন করল যে উক্ত পশুটির মূল্য নষ্ট হয়ে গেলে বা কমে গেল। ক-এর এরূপ অনিষ্টসাধন এই ধারার অধীনে বিচার্য। এখানে ক এই ধারার বিধানানুযায়ী ‘‘অনিষ্টসাধন’’ করেছে বলে সে’’ অনিষ্টসাধনকারী’’ হিসেবে গণ্য হবে।

 

হলফনামা আইন, ১৮৭৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ (১৮৭৩ সনের ১০ নং আইন


আদালতের কতিপয় হলফ প্রদানের ক্ষমতা কোন বিচার কার্যক্রম কোন পক্ষ বা সাক্ষী তৃতীয় কোন পক্ষের ক্ষতিকারক বা অশালিন বা বিচারের পরিপন্থী নহে এমন গোত্রের অবশ্য পালনীয় নীতি বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে হলফ করিয়া বা প্রতিজ্ঞাপূর্বক সাক্ষ্য প্রদান করিতে, চাহিলে এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, উপযুক্ত বিবেচনায় আদালত তাহাকে অনুরূপ হলফ বা প্রতিজ্ঞা/সত্য পাঠ করাইতে পারিবেন ।

ধারা -৯

প্রতিপক্ষের প্রস্তাবমতে আদালতের কোন পক্ষ বা সাক্ষীকে হলফ বা সত্য পাঠ করানোর ক্ষমতা। ৮ ধারায় উল্লিখিত রূপে যদি কোন বিচারিক কার্যক্রমের কোন পক্ষ ঐরূপ শপথে আবদ্ধ হইবার বা ধর্মতঃপ্রতিজ্ঞা পূর্বক সাক্ষ্য দানের প্রস্তাব করে এবং যদি ঐরূপ কার্যক্রমে অন্য পক্ষ বা সাক্ষী কর্তৃক ঐরূপ শপথ গ্রহণ অথবা ধর্মত প্রতিজ্ঞা পূর্বক সাক্ষ্য প্রদান করা হইয়া থাকে। তবে আদালত উপযুক্ত মনে করিলে ঐরূপ পক্ষ বা সাক্ষীকে উক্ত শপথ গ্রহণ বা প্রতিজ্ঞা পূর্বক সাক্ষ্য প্রদান করিবে কিনা তাহা জিজ্ঞাসা করিতে বা করাইতে পারিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, আদালতে হাজির হইয়া এইরূপে প্রশ্নের জবাব দানের জন্য কোন পক্ষ বা সাক্ষীকে বাধ্য করা যাইবে না।

ধারা- ১০

সম্মত থাকিলে হলফ প্রদান যদি এইরূপ কোন পক্ষ বা সাক্ষী উক্ত প্রকার হলফ করিতে বা সত্যপাঠে সম্মত হন, আদালত হলফ বা সত্য পাঠ করাইবেন বা যদি ইহা এইরূপ প্রকৃতির হয় যে, যাহা আদালতের বাহিরে করানো অধিকতর সুবিধাজনক হইবে তাহা কাহাকেও কমিশন নিয়োগপূর্বক উহা প্রদান/পাঠ করানো যাইবে এবং সত্যপাঠপূর্বক সেই ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করতঃ উহা আদালতে প্রেরণ করিতে হইবে।

ধারা-১১

সত্যপাঠ পূর্বক প্রদত্ত সাক্ষ্য উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত গণ্য হইবে। হলফ বা সত্যপূর্বক প্রদত্ত সাক্ষ্য উহাতে বর্ণিত বিষয়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

 

ফরম-১

[ বিধি ৩ দ্রষ্টব্য ]ফরম-২[ বিধি ৫(২), ৫(৪), ১০(৪), ১৯(৩), ৩০(৩), ৩২(২) দ্রষ্টব্য ]
মামলার রেজিস্টার
.................. ইউনিয়ন পরিষদফরম-৩[ বিধি ৫ (২) দ্রষ্টব্য ]
মামলার আদেশনামাফরম-৪[ বিধি ৮ (১) দ্রষ্টব্য ]
প্রতিবাদীর প্রতি সমনফরম-৫[ বিধি ১৫ (১) দ্রষ্টব্য ]
সাক্ষীর প্রতি সমনফরম-৬[ বিধি ১০ (১) দ্রষ্টব্য ]
সদস্য মনোনয়নের নির্দেশনামা[ বিধি ১০ (২) দ্রষ্টব্য ]গ্রাম আদালতের সদস্য মনোনয়ন ফরমফরম-৮[ বিধি ১০ (৫) দ্রষ্টব্য ]
গ্রাম আদালতে সদস্য উপস্থিতির অনুরোধ পত্রফরম-৯[ বিধি ১৩ (৩) দ্রষ্টব্য ]
আপোষনামা
(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিক চিহ্ন দিন)ফরম-১০[ বিধি ১৫ (৮) দ্রষ্টব্য ]
মামলার হাজিরাফরম-১১[ বিধি ১৪ (৩) দ্রষ্টব্য ]
মামলার সিøপফরম-১২[ বিধি ১৯ (১) ও ২০(১) দ্রষ্টব্য ]
ডিক্রী বা আদেশের ফরমফরম-১২[ বিধি ১৯ (১) দ্রষ্টব্য ]
ডিক্রী এবং আদেশের রেজিস্টার
............................................................... ইউনিয়ন পরিষদফরম-১৩[ বিধি ২২ (২) দ্রষ্টব্য ]
গ্রাম আদালতের ক্ষতিপূরণের অর্থ লেনদেন রেজিস্টারফরম-১৪[বিধি ২৫ (১) দ্রষ্টব্য]ফরম-১৫[ বিধি ২৫ (২) দ্রষ্টব্য ]
ফিস বা জরিমানা রেজিস্টারফরম-১৬[ বিধি ২৬ (১) দ্রষ্টব্য ]
................................ইউনিয়ন পরিষদ পত্র প্রদান রেজিস্টার
(গ্রাম আদালত সংক্রান্ত)ফরম-১৭[ বিধি ২৭ (১) দ্রষ্টব্য ]
অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন
ইউনিয়নঃ ...................................... উপজেলাঃ ...................................... জেলাঃ .................................. বিভাগঃ ........................
প্রতিবেদনের সময়কালঃ --------------------------------- হইতে ----------------------- পর্যন্তফরম-১৮[ বিধি ২৭ (৩) দ্রষ্টব্য ]
উপজেলার আওতাধীন গ্রাম আদালতে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন
উপজেলাঃ ..................................................... জেলাঃ .............................................................. বিভাগঃ .............................
প্রতিবেদনের সময়কালঃ ---------------------- হইতে ----------------------- পর্যন্তফরম-১৯[বিধি ২৭ (৪) দ্রষ্টব্য]
জেলার আওতাধীন গ্রাম আদালতে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন
জেলাঃ ................................................... বিভাগঃ ............................................
প্রতিবেদনের সময়কালঃ ------------------------------------ হইতে ----------------------- পর্যন্তফরম-২০[ বিধি ৩৪ (৫)দ্রষ্টব্য ]
অর্থ/জরিমানা আদায়ফরম-২১[ বিধি ৩৬ দ্রষ্টব্য ]
ফৌজদারী আদালতে মামলা প্রেরণ

 

আপোষ হলে আদেশনামা



মামলার আদেশনামা

হাপানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ/ গ্রাম আদালত
উপজেলাঃ নওগাঁ সদর, জেলাঃ নওগাঁ

মামলা নম্বরঃ ১২/২০১৬ মামলার ধরনঃ দেওয়ানী
আবেদনকারীঃ মোঃ আবদুল গফুর প্রতিবাদীঃ মোঃ ওসমান কবীর

আদশে নং ও তারখি আদেশের বিবরণ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

১ ২৫/০৯/১৬
অদ্য ২৫/০৯/১৬ খ্রীঃ রোজ রববিার জনাব মোঃ আবদুল গফুর , প্রতবিাদী মোঃ ওসমান কবীর এর কাছ থকেে চুক্তমিূলে প্রাপ্য ৩০,০০০ টাকা আদায়রে জন্য জন্য নর্ধিারতি ফরমে আবদেন করছেনে।

দখেলাম। আবদেনকারী জনাব মোঃ আবদুল গফুর-এর আবদেনপত্র র্পযালোচনা করা হল। আবদেনরে বষিয়টি গ্রাম আদালতে বচর্িায হওয়ায় উভয়পক্ষকে পরর্বতী র্ধায তারখিে এ র্কাযালয়ে হাজরি হওয়ার জন্য নর্দিশে প্রদান করা হলো। উভয়পক্ষকে হাজরি হওয়ার জন্য নোটশি প্ররেণ করা হোক।

পঃ তাঃ ২৯/০৬/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

২ ২৯/০৯/১৬
অদ্য ২৯/০৬/১৬ খ্রীঃ জনাব মোঃ আবদুল গফুর এর আবদেনরে বষিয়ে উভয়পক্ষে হাজরি হওয়ার র্ধায দনি। উভয় পক্ষ হাজরি।

দখেলাম। গ্রাম আদালত গঠনরে জন্য উভয় পক্ষকে স্ব-স্ব পক্ষে ০১জন ইউনয়িন পরষিদরে সদস্য এবং ০১জন গণ্যমান্য ব্যক্তি মোট ০২জন প্রতনিধিরি মনোনয়ন দতিে বলা হল। প্রতনিধিি মনোনয়নরে নর্দিশেনামা এবং ফরম সরবরাহ করা হোক। মনোনীত প্রতনিধিরি নামরে তালকিা দাখলিরে জন্য পরর্বতী র্ধায

পঃ তাঃ ০৪/১০/১৬

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

১৩/১০/১৬
অদ্য ১৩/১০/১৬ খ্রীঃ জনাব মোঃ আবদুল গফুর এর আবেদনের বিষয়ে গঠিত গ্রাম আদালতের ১ম শুনানীর জন্য ধার্য দিন। উভয়পক্ষ, স্বাক্ষী এবং গ্রাম আদালতের সদস্যবৃন্দ আদালতে হাজির।

দেখলাম। আবেদনের বিষয়ে উভয়পক্ষের শুনানী গ্রহণ করা হল। শুনানী শেষে আদালতের কাছে বিচার্য বিষয় আছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় পক্ষগণকে আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে আবেদনে বর্ণিত বিরোধের সমাধান করতে বলা হল। পক্ষগণ আপোষ বা মীমাংসা করবেন কীনা তার আলোচনার জন্য ২ ঘন্টা সময় প্রার্থনা করেন। সময় মঞ্জুর করা হল।

পক্ষগণ আদালতে পুনরায় উপস্থিত। উভয়পক্ষ আদালতে জানান যে, তারা আপোষের মাধ্যমে আবেদনে বর্ণিত বিরোধের সমাধান করতে সম্মত হয়েছেন। তবে আপোষনামা সম্পাদনের জন্য কিছু সময় প্রার্থনা করেছেন। সময় মঞ্জুর করা হল। আপোষনামা সম্পাদনের ফরম সরবরাহ করা হোক। আপোষনামা দাখিলের জন্য পরবর্তী ধার্য তারিখ-

পঃ তাঃ ২০/১০/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

২০/১০/১৬
অদ্য ২০/১০/১৬ খ্রীঃ জনাব মোঃ আবদুল গফুর এর আবদেনরে বষিয়ে ১৩/১০/১৬ তারখিরে আদশে অনুযায়ী আপোষনামা দাখলিরে জন্য র্ধায দনি। উভয়পক্ষ আদালতে হাজরি।

দখেলাম। প্রতবিাদীপক্ষ আপোষানামা সম্পাদনরে জন্য আরো কছিু সময় র্প্রাথনা করনে। সময় মঞ্জুর করা হল। আপোষনামা দাখলিরে জন্য পরর্বতী র্ধায তারখি-

পঃ তাঃ ২৭/১০/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

২৭/১০/১৬
অদ্য ২০/১০/১৬ খ্রীঃ জনাব মোঃ আবদুল গফুর এর আবদেনরে বষিয়ে ২০/১০/১৬ তারখিরে আদশে অনুযায়ী আপোষনামা দাখলিরে জন্য র্ধায দনি। উভয়পক্ষ আদালতে হাজরি হয়ে আপোষনামা দাখলি করছেনে।

দখেলাম। দাখলিকৃত আপোষনামা র্পযালোচনা করা হল। আপোষনামায় উভয়পক্ষরে স্বাক্ষর, স্বাক্ষী হসিবেে উভয়পক্ষরে মনোনীত সদস্যগণরে স্বাক্ষর এবং র্শতাদি র্পযালোচনা শষেে আপোষনামা যথাযথ আছে র্মমে প্রতীয়মান হয়ছে।ে আপোষনামায় র্বণতি র্শতসমূহ আগামী ০৬ মাসরে মধ্যে প্রতপিালন করে আদালতকে অবহতি করার জন্য বলা হল। আপোষনামার র্শত সমূহ প্রতপিালন র্পূবক আদালতকে পরর্বতী র্ধায তারখিে অবহতি করার নর্দিশে প্রদান করা হল।

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

২১/১১/১৬
অদ্য জনাব মোঃ আবদুল গফুর এর আবদেনরে বষিয়ে সম্পাদতি আপোষনামার র্শত সমূহ প্রতপিালন র্পূবক আদালতকে অবহতি করার র্ধায দনি। উভয়পক্ষ উপস্থতি।

দখেলাম। আবদেনকারী আপোষনামার র্শত সমূহ যথযথভাবে প্রতপিালন করা হয়ছেে র্মমে আদালতকে জানয়িছেনে। এমতবস্থায় মামলা নষ্পিত্তি করা হল।

মামলার আদেশনামা
বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ/গ্রাম আদালতউপজেলাঃ নওগাঁ সদর জেলাঃ নওগাঁ
মামলার নম্বরঃ ১৫/২০১৬ মামলার ধরণঃ দেওয়ানী
আবেদনকারীঃ মোঃ আবদুল সাত্তার প্রতিবাদীঃ মোঃ ফারুক আহমেদআদশে নং ও তারখিআদেশের বিবরণচেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

১ ২৫/০৯/১৬

অদ্য ২৫/০৯/১৬ খ্রীঃ রোজ রববিার জনাব মোঃ আবদুল গফুর , প্রতবিাদী মোঃ ওসমান কবীর এর কাছ থকেে চুক্তমিূলে প্রাপ্য ৩০,০০০ টাকা আদায়রে জন্য জন্য নর্ধিারতি ফরমে আবদেন করছেনে।

দখেলাম। আবদেনকারী জনাব মোঃ আবদুল গফুর-এর আবদেনপত্র র্পযালোচনা করা হল। আবদেনরে বষিয়টি গ্রাম আদালতে বচর্িায হওয়ায় উভয়পক্ষকে পরর্বতী র্ধায তারখিে এ র্কাযালয়ে হাজরি হওয়ার জন্য নর্দিশে প্রদান করা হলো। উভয়পক্ষকে হাজরি হওয়ার জন্য নোটশি প্ররেণ করা হোক।

পঃ তাঃ ২৯/০৬/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর


২৯/০৯/১৬

অদ্য ২৯/০৬/১৬ খ্রীঃ জনাব মোঃ আবদুল সাত্তার এর আবেদনের বিষয়ে উভয়পক্ষে হাজির হওয়ার ধার্য দিন। উভয় পক্ষ হাজির।

দেখলাম। গ্রাম আদালত গঠনের জন্য উভয় পক্ষকে স্ব-স্ব পক্ষে ০১জন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং ০১জন গণ্যমান্য ব্যক্তি মোট ০২জন প্রতিনিধির মনোনয়ন দিতে বলা হল। প্রতিনিধি মনোনয়নের নির্দেশনামা এবং ফরম এখনই সরবরাহ করা হোক। মনোনীত প্রতিনিধির নামের তালিকা দাখিলের জন্য পরবর্তী ধার্য তারিখ-

পঃ তাঃ ০৪/১০/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর


০৪/১০/১৬

অদ্য ০৪/১০/১৬ খ্রীঃ জনাব মোঃ আবদুল সাত্তার এর আবেদনের বিষয়ে উভয়পক্ষে প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য ধার্য দিন। উভয় পক্ষ হাজির হয়ে মনোনীত প্রতিনিধির নামের তালিকা দাখিল করেছেন।

দেখলাম। 2য় পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের পরিবর্তে অন্য একজন প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদন গ্রহণ করা হল। মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে গ্রাম আদালত গঠন করা হলো। উভয়পক্ষকে পরবর্তী ধার্য তারিখে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষী, দলিলপত্র এবং মনোনীত প্রতিনিধিসহ এ কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলা হল। গ্রাম আদালতে সদস্য উপস্থিতির অনুরোধ পত্র এবং সাক্ষীদের প্রতি নোটিশ প্রেরণ করা হোক। আবেদনের বিষয়ে ১ম শুনানীর জন্য পরবর্তী ধার্য তারিখ-

পঃ তাঃ ১৩/১০/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

৪ ১৩/১০/১৬

অদ্য ১৩/১০/১৬ খ্রীঃ জনাব মোঃ আবদুল সাত্তার এর আবেদনের বিষয়ে গঠিত গ্রাম আদালতের ১ম শুনানীর জন্য ধার্য দিন। উভয়পক্ষ, স্বাক্ষী এবং গ্রাম আদালতের সদস্যবৃন্দ আদালতে হাজির।

দেখলাম। আবেদনের বিষয়ে উভয়পক্ষের শুনানী গ্রহণ করা হল। শুনানী শেষে আদালতের কাছে বিচার্য বিষয় আছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় পক্ষগণকে আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে আবেদনে বর্ণিত বিরোধের সমাধান করতে বলা হল। পক্ষগণ আপোষ বা মীমাংসা করবেন কীনা তার আলোচনার জন্য ২ ঘন্টা সময় প্রার্থনা করেন। সময় মঞ্জুর করা হল। পক্ষগণ আদালতে পুনরায় উপস্থিত। উভয়পক্ষ আদালতে জানান যে, তারা আপোষের মাধ্যমে আবেদনে বর্ণিত বিরোধের সমাধান করতে সম্মত হয়েছেন। তবে আপোষনামা সম্পাদনের জন্য কিছু সময় প্রার্থনা করেছেন। সময় মঞ্জুর করা হল। আপোষনামা সম্পাদনের ফরম সরবরাহ করা হোক। আপোষনামা দাখিলের জন্য পরবর্তী ধার্য তারিখ-

পঃ তাঃ ২০/১০/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

৫ ২০/১০/১৬

অদ্য ২০/১০/১৬ খ্রীঃ জনাব মোঃ আবদুল সাত্তার এর আবেদনের বিষয়ে ১৩/১০/১৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী আপোষনামা দাখিলের জন্য ধার্য দিন। উভয়পক্ষ আদালতে হাজির।

দেখলাম। প্রতিবাদীপক্ষ আপোষানামা সম্পাদনের জন্য আরো কিছু সময় প্রার্থনা করেন। সময় মঞ্জুর করা হল। আপোষনামা দাখিলের জন্য পরবর্তী ধার্য তারিখ-

পঃ তাঃ- ২৭/১০/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

৬ ২৭/১০/১৬

অদ্য ২০/১০/১৬ খ্রীঃ জনাব মোঃ আবদুল সাত্তার এর আবেদনের বিষয়ে ২০/১০/১৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী আপোষনামা দাখিলের জন্য ধার্য দিন। উভয়পক্ষ আদালতে হাজির।

দেখলাম। অদ্য আপোষনামা দাখিলের জন্য দিন ধার্য থাকলেও আবেদনকারী আদালতকে জানান যে তিনি স্বাক্ষ্য-দলিল দ্বারা মামলার বিষয় প্রমাণ করতে চান। তিনি আপোষনামা সম্পাদন করতে অনিচ্ছুক। এমতাবস্থায়, মামলা শুনানীর মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য ঠিক করা হল। উভয়পক্ষকে স্বাক্ষ্য দলিলসহ পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হল। স্বাক্ষীদের প্রতি সমন প্রদান করা হোক। ১ম শুনানীর জন্য পরবর্তী ধার্য তারিখ-

পঃ তাঃ- ০৬/১১/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

১ ২৫/০৯/১৬

পঃ তাঃ ২৯/০৬/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

৭ ০৬/১১/১৬

অদ্য ১৫/২০১৬ নম্বর মামলার ১ম শুনানীর জন্য ধার্য দিন। উভয়পক্ষ উপস্থিত। কিন্তু আবেদনকারীর স্বাক্ষীগণ অনুপস্থিত।

দেখলাম। আদালতের সমন পাওয়া সত্ত্বেও স্বাক্ষীগণ অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের প্রত্যেককে গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ এর ১০(২) ধারা মোতাবেক ১০০০টাকা জরিমানা করা হল। পরবর্তী শুনানীর জন্য পরবর্তী ধার্য তারিখ-

পঃ তাঃ- ১৩/১১/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর

৮ ১৩/১১/১৬

অদ্য ১৫/২০১৬ নম্বর মামলার শুনানীর জন্য ধার্য দিন। উভয়পক্ষ আদালতে হাজির। পক্ষগণ তাঁদের দলিলপত্র দাখিল করেছেন।

দেখলাম। দাখিলকৃত দলিলপত্র পর্যালোচনা করা হল। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনা হল। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ আরম্ভ করা হল।

১ম সাক্ষীঃ

আবেদনকারী পক্ষের ১ম সাক্ষী, আবেদনকারী নিজেই আদালতে জানান যে, প্রতিবাদী মোঃ ফারুক আহমেদ ২৩/০৪/১৬ তারিখ চুক্তিমূলে ৩০,০০০ টাকা আবেদনকারীর কাছ থেকে ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। এই টাকা ২৩/৭/১৬ তারিখের মধ্যে পরিশোধের কথা উল্লেখ থাকলেও অদ্যাবধি টা পরিশোধ করেননি। ঘটনা বর্ণনায় তিনি জানান যে, প্রতিবাদী তার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য আবেদনকারীর কাছ থেকে চুক্তিমূলে এই টাকা গ্রহণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবাদী নিজ থেকেই টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও তা পরিশোধ না করায়, টাকা চাওয়া হলে, বিভিন্ন সময় নানাভাবে কটু কথা বলে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন এবং টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি আরো জানান চুক্তি সম্পাদন ও টাকা হস্তান্তর আবেদনকারীর বাড়ীতেই সংঘটিত হয় এবং এ সময় সাক্ষীগণ উপস্থিত ছিলেন।

২য় সাক্ষীঃ

আবেদনকারী পক্ষের ২য় সাক্ষী, জনাব রবিউল হোসেন আদালতে জানান যে, প্রতিবাদী মোঃ ফারুক আহমেদ ২৩/০৪/১৬ তারিখ তার সামনেই ৩০,০০০ টাকা আবেদনকারীর কাছ থেকে ধার হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ২৩/৭/১৬ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করবেন মর্মে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ বিষয়টি তার সম্মূখে হয়েছে। ঘটনা বর্ণনায় তিনি জানান যে, তিনি নিজে, আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পরস্পর প্রতিবেশী। চুক্তি সম্পাদনের সময় উভয়পক্ষ তাঁকে সাক্ষী মান্য করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবাদী নিজ থেকেই টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও তা পরিশোধ না করায়, আবেদনকারী টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন প্রকার কটু কথা বলেন।

৩য় সাক্ষীঃ

আবেদনকারী পক্ষের ২য় সাক্ষী, জনাব আজিজার রহমান আদালতে জানান যে, প্রতিবাদী মোঃ ফারুক আহমেদ ২৩/০৪/১৬ তারিখ তার সামনেই ৩০,০০০ টাকা আবেদনকারীর কাছ থেকে ধাঁর হিসেবে গহণ করেন এবং ২৩/৭/১৬ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করবেন মর্মে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি আবেদনকারীর বাড়িতেই সম্পাদিত হয়। তিনি আরো জানান যে, তিনি আবেদনকারীর বাড়ী থেকে চাটাই আনতে গিয়েছিলেন। যাওয়ার পর এই টাকা হস্তান্তর ও চুক্তির ঘটনাটি দেখতে পান এবং উপস্থিত ছিলেন।

১ম পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ। প্রতিবাদী পক্ষ সাক্ষীর জন্য সময় প্রার্থনা করেছেন। আবেদন মঞ্জুর করা হল। প্রতিবাদী পক্ষের সাক্ষীর জন্য পরবর্তী ধার্য তারিখ-

পঃ তাঃ- ১৭/১১/১৬
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষ

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর Mountain View Mountain View

 

 

ভুমিকাঃ-

স্হানীয়ভাবে পল্লী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের বিচার প্রাপ্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে প্রণীত হয় গ্রাম  আদালত অধ্যাদেশ। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ০৯ মে ১৯ নং আইনের মাধ্যমে প্রণীত হয় গ্রাম আদালত আইন । এ আইনের মূল কথাই হলো স্হানীয়ভাবে স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পিত্তি।নিজেদেন মনোনীত প্রতিনিধিদের সহায়তায় গ্রাম আদালত গঠন করে বিরোধ শান্তি পূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও স্হিতিশীলতা বজায় থাকে বলেই এ আদালতের মাধ্যমে আপামর জনগণ উপকৃত হচ্ছেন ।

গ্রাম আদালত বলতে কী বুঝায় ?

গ্রামা লের কতিপয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেওয়ানী ও ফেৌজদারী বিরোধ স্হানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় যে আদালত গঠিত হয় যে আদালতকে গ্রাম আদালত বলে ।

কোন আইনের আওতায় গ্রাম আদালত গঠিত হবে ?

গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ এর আওতায় গ্রাম আদালত গঠিত হবে ।

গ্রাম আদালতের উদ্দেশ্য কী?

কম সময়ে, অল্প খরচে, ছোট ছোট বিরোধ দ্রুত ও স্হানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করাই গ্রাম আদালতের উদ্দেশ্য ।

গ্রাম আদালত আইন কত তারিখ হতে কার্যকর হয়েছে ?

০৯ মে ২০০৬ তারিখ হতে গ্রাম আদালত আইন কার্যকর হয়েছে ।

গ্রাম আদালত আইন কীভাবে গঠিত হয় ?

৫ (পাচ) জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয় । এরা হলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আবেদনকারীর পক্ষের ২ জন প্রতিনিধি (১ জন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এবং ১ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি) প্রতিবাদীর পক্ষের ২ জন প্রতিনিধি (১ জন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এবং ১ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি)

 ফৌজদারী বিষয়ঃ-

১। চুরি সংক্রান্ত বিষয়াদি

২। ঋগড়া -বিবাদ

৩। শক্রতামূলক ফসল ,বাডি বা অন্য কিছুর ক্ষতি সাধন

৪। গবাদী পশু হত্যা বা ক্ষতিসাধন

৫। প্রতারণামুলক বিষয়াদি

৬। শারিরীক আক্রমণ ,ক্ষতি সাধন, বল প্রয়োগ করে ফুলা ও জখম করা ।

৭। গচিছত কোনো মুল্যবান দ্রব্য বা জমি আত্নসাৎ

দেওয়ানী বিষয়ঃ-

১। স্হাবর সম্পতি দখল পুনরুদ্ধার

২। অস্হাবর সম্পত্তি বা তার মূল্য আদায়

৩। অস্হাবর সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়

৪। কৃষি শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরী পরিশোধ ও ক্ষতিপুরণ আদায়ের মামলা

৫। চুক্তি বা দলিল মূল্যে প্রাপ্য টাকা আদায়

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter