মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলী

(১)  পরিষদের প্রধান কার্যাবলি হবে নিম্নরুপ, যথা
    (ক) পশাসন ও সংস্থাপন বিষয়াদী,
    (খ)  জনশংখলা রক্ষা,
    (গ) জনকল্যান মুলক কার্য সম্পর্কিত সেবা, এবং
    (ঘ) স্থানীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
(২) স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর দ্বিতীয় তফসিল অনুসারে পরিষদের প্রধান কার্যাবলি হচ্ছে নিম্নরুপ- সরকার সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিধি দ্বারা নির্ধারণ করতে পারবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ( টিআর কাবিখা ও অন্যান্য) সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের এক তৃতীয়াংশ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যকে অর্পণ করতে হবে।
১.৫.৩  দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত ইউনিয়ণ পরিষদের বিস্তারিত কার্যাবলি
(১) পাঁচশালা ও বিভিন্ন মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরী ,
(২) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন , সংরক্ষন ও রক্ষণাবেক্ষণ,
(৩) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সংরক্ষীত,
(৪) স্বাস্থ, পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন,
(৫) কৃষি, মৎস ও পশু সম্পদ এবং অন্যান্য অর্থনৈতীক উন্নয়নে প্রয়োজনে কার্যক্রম গ্রহন,
(৬) মহামরি নিয়ন্ত্রন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন,
(৭) কর, ফি, টোল, ফি ইত্যাদি ধার্যকরণ আদায়,
(৮) পারিবারিক বিরোধ নিরসন, নারী ও শিশু কল্যান সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন
(৯) খেলাধুলা, সামাজিক উন্নতি সংস্কৃতি ইত্যাদি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় উদ্যেগে গ্রহন ও সহযোগিতা প্রধান,
(১০) পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন,
(১১) আইন শৃংখলা রক্ষায় সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন,
(১২) জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধীকরণ,
(১৩) সরকারী স্থান, উন্মুক্ত জায়গা, উদ্যান ও খেলার মাঠের হেফাজত করা,
(১৪) ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তায় ও সরকারী স্থানে বাতি জ্বালানো,
(১৫) বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষন এবং বৃক্ষসম্পদ চুরি ও ধ্বংশ প্রতিরোধ,
(১৬) কবরস্থান, শ্মশান, জনসাধারণের সভার স্থান ও অন্যান্য সরকারী সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা,
(১৭) জনপথ, রাজপথ, ও সরকারী স্থানে অনধিকার প্রবেশ রোধ এবং এসব স্থানে উৎপাত ও তার কারণ বন্ধ করা,
(১৮) জনপথ ও রাজপথের ক্ষতি, বিনষ্ট বা ধ্বংশ প্রতিরোধ করা,
(১৯) গোবর ও রাস্তার আবর্জনা সংগ্রহ, অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা,
(২০) অপরাধ মুলোক বিপজ্জনক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন ,
(২১) মৃত পশুর দেহ অপসারণ ও নিয়ন্ত্রন এবং পশু জবাই নিয়ন্ত্রন,
(২২) ইউনিয়ন নতুন বাড়ী, দালান নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ এবং বিপজ্জনক দালান নিয়ন্ত্রন,
(২৩) কুয়া, পানি তোলার কল, জলাধার, পুকুর  এবং পানি সরবরাহের অন্যান্য উৎসের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষন,
(২৪) খাবার পানির উৎসের দূষণ রোধ এবং জনস্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর সন্দেহযুক্ত কূপ,  পুকুর বা পানি সরবরাহের অন্যান্য স্থানের পানি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা,
(২৫) খাবার পানির জন্য সংরক্ষিত কূপ, পুকুর বা পানি সরবরাহের অন্যান্য স্থানে বা নিকটবর্তী স্থানে গোসল, কাপড় কাঁচা বা পশু গোসল করানো নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রন করা,
(২৬) পুকুর বা পানি সরবরাহের অন্যান্য স্থানে বা নিকটবর্তী স্থানে শন, পাট বা অন্যান্য গাছ বিজানো নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রন করা,
(২৭) আবাসিক এলাকার মধ্যে চামড়া রং করা বা পাকা করা নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রন করা,
(২৮) আবাসিক এলাকার মাটি খনন করে পাথর বা অন্যান্য বস্ত্ত উত্তোলন নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রন করা,
(২৯) আবাসিক এলাকায় ইট, মাটির পাত্র বা অন্যান্য ভাটা নির্মাণ নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রন করা,
(৩০) অগ্নি, বন্যা, শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়, ভূমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় তৎপরতা গ্রহন ও সরকারকে সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান,
(৩১) বিধবা, এতিম, গরিব ও দুঃস্থ ব্যাক্তিদের তালিকা সংরক্ষন ও সাহায্য করা,
(৩২) সমবায় আন্দোলন ও গ্রামীণ শিল্পের উন্নয়ন ও উৎসাহ প্রদান,
(৩৩) বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ,
(৩৪) গবাদি পশুর খোয়াড় নিয়ন্ত্রন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা,
(৩৫) প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা,
(৩৬) ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, আরাম-আয়েশ বা সুযোগ সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহন,
(৩৭) ই-গবনেন্স চালু ও উৎসাহিতকরণ,
(৩৮) ইউনিয়ন পরিষদের মত সদৃশ কাজে নিয়োজিত অন্যান্য সংস্থার সাথে সহযোগিতা সম্পসারণ,
(৩৯) সরকার কতৃক সময়ে সময়ে আরোপিত দায়িত্বাবলি।

 

** ইউনিয়ন পরিষদের করের উৎস, নীতিমালা, কর নিরুপন ও আদায় পদ্ধতি **

ইউনিয়ন পরিষদের করের উৎস
গ্রামীণ জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জনগণ ও সরকার হতে প্রাপ্ত অর্থই হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের মূল উৎস। বিধান অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের আয় মূলতঃ তিনটি উৎস হতে হয়ে থাকে, যেমন,১) রাজস্ব আয়,২) সরকারী অনুদান ও ৩) অন্যান্য উৎস।

ক) রাজস্ব আয়
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯এর ধারা ৬৫ ও চতুর্থ তফসিল অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদকে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে নিম্নুক্ত ১৩ টি বিষয়ের উপর কর,রেইট, ফি ইত্যাদি আরোপ ও আদায়ের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যথা-
(১) নির্ধারিত পদ্ধতিতে আরোপিত ইমারত/ভূমির বার্ষির মুল্যের উপর কর বা ইউনিয়ন রেইট,
(২) পাকা ইমারতের সর্বমোট আয়তনের প্রতি বর্গফুটের উপর নির্ধারিত হারে ইমারত পরিকল্পনা অনুমোদন ফি,
(৩) পেশা, ব্যবসা এবং বৃত্তির (কলিং) উপর কর,
(৪) সিনেমা, ড্রামা ও নাট্য প্রদশনী এবং অন্যান্য আমোদ প্রমোদ এবং চিত্ত বিনোদনের উপর কর,
(৫) ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স এবং পারমিটের ফি,
(৬) ইউনিয়নের সীমানার মধ্যে নির্ধারিত হাট-বাজার এবং ফেরি ঘাট হতে ফি,(লিজ মানি)
(৭) ইউনিয়নের সীমানার মধ্যে হস্তান্তরিত জলমাহালের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অংশ,
(৮) ইউনিয়নের সীমানার মধ্যে অবস্থিত পাথরমহাল, বালুমহালের আয়ের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অংশ,
(৯) স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর বাবদ আয়ের অংশ,
(১০) নিকাহ নিবন্ধন ফি,
(১১) ভূমি উন্নয়র কর সংক্রান্ত আয়ের অংশ,
(১২) বিজ্ঞাপনের উপর কর,
(১৩) এ আইনের যে কোন বিধানের অধীনে অন্য যে কোন কর,

(খ) সরকারী অনুদান
(১) কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি
(২) উন্নয়ন খাতে অনুদান,
(৩) থোক বরাদ্দ/বর্ধিত থোক বরাদ্দ,
(৪) পূর্ত কর্মসূচি অনুদান,
(৫) প্রকল্প সাহায্য অনুদান।

(গ) অন্যান্য উৎস
(১) কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা,
(২) সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত মুনাফা বা ভাড়া,
(৩) বিনিয়গ হতে লাভ,
(৪) ট্রাস্ট হতে প্রাপ্ত অর্থ
(৫) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থ।

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter